জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে কৃষির চেহারা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি

আল-আদনান পারভেজ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পেশা কৃষি এখন এক গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন হঠাৎ নয়, বরং ধীরে ধীরে ঘটছে—কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত।

শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা কৃষি ব্যবস্থার ভিত্তিই এখন নড়বড়ে হয়ে পড়ছে, যেখানে কৃষকদের আর শুধু ঐতিহ্যগত জ্ঞান নয়, বরং অনিশ্চিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হচ্ছে।

কৃষিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিচ্ছে জলবায়ুর অস্থিরতা। এক সময় নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি, শীত বা গ্রীষ্মের আগমন ছিল স্বাভাবিক নিয়ম, কিন্তু এখন সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। কখনও বৃষ্টি আগেভাগে হচ্ছে, কখনও দেরিতে, আবার অনেক সময় একেবারেই হচ্ছে না।

ফলে কৃষকদের বারবার বপনের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এখন কৃষকরা পূর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতার চেয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন।

তাপমাত্রার ওঠানামাও কৃষির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। প্রতিটি ফসলের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়, কিন্তু সামান্য পরিবর্তনও ফসলের ফুল ফোটা, পরাগায়ন এবং দানা গঠনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তাপজনিত চাপ এখন অনেক ফসলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শুধু ফলন কমাচ্ছে না, খাদ্যের পুষ্টিগুণেও প্রভাব ফেলছে।

পানির সংকট এবং অতিরিক্ত পানির সমস্যা—দুটিই এখন কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কোথাও দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীনতায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং মাটির পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাচ্ছে।

এই দ্বিমুখী সমস্যার কারণে পানি ব্যবস্থাপনা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অনেক কৃষককে সেচ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে বা পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা সবার পক্ষে সহজ নয়।

মাটির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির ক্ষয় বাড়ছে এবং জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় উর্বর জমি ধীরে ধীরে অনাবাদী হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

ইবাংলা বাএ

জলবায়ুপরিবর্তনেবদলেযাচ্ছে