মসজিদে গাউসুল আজমে বদরী ফান্ডের ইফতার অনুষ্ঠিত

জ. ই বুলবুল

রাজধানীর অভিজাত মজজিদ গাউসুল আজমে প্রতিবছরের ন্যায় বদরী ফান্ডের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছরে ১৭ রমজানের এই দিনে ঐতিহাসিক বদরীর যুদ্ধের তাৎপর্য তোলে ধরে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে এ বিশেষ আয়োজনটি করে থাকে। এ ছাড়াও তারা সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মহাখালীর গাউসুল আজম মসজিদে চলছে বিনামূল্যে ইফতার আয়োজনও।

পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম মসজিদ পরিণত হয় মানবিকতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য মিলনমেলায়। টানা ৩৫ বছর ধরে এই মসজিদে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি রোজাদারের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত এই উদ্যোগ রাজধানীতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসরের নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় ইফতার প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কোরআন তিলাওয়াতের ধ্বনির মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা সারিবদ্ধভাবে রোজাদারদের জন্য ইফতারের প্লেট সাজাতে থাকেন। মসজিদের মূল বারান্দা এবং বাইরের খোলা জায়গায় বসার জন্য রাখা হয় সুব্যবস্থা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লীরা নির্ধারিত স্থানে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বসে ইফতারের অপেক্ষায় থাকেন।

মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, “এখানে ধনী-গরিব, পেশাজীবী, শ্রমজীবী—সবাই একই কাতারে বসে একই ধরনের প্লেটে ইফতার করেন। কারও জন্য আলাদা কোনো আয়োজন থাকে না।

সবার জন্যই সমান খাবার পরিবেশন করা হয়।” তিনি জানান, প্রতিদিনের ইফতারের তালিকায় থাকে পেঁয়াজু, খেজুর, মুড়ি, ছোলা, কলা, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি, পিঠা ও শরবত। নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা।

মসজিদ প্রাঙ্গণে আলাদা মহিলা মসজিদে তাদের জন্য ইফতার ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান পেশ ইমাম। ফলে নারী রোজাদাররাও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। সম্পূর্ণভাবে মুসল্লীদের দান ও অনুদানের অর্থেই পরিচালিত হয় এই ইফতার কর্মসূচি। প্রতিদিনের ইফতার আয়োজন করতে প্রায় এক লাখ টাকাও ব্যয় হয়। রান্না ও প্রস্তুতির জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত বাবুর্চিরা পুরো রমজান মাস জুড়ে নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন।

ইফতার করতে আসা একাধিক মুসল্লী জানান, তারা বহু বছর ধরেই এখানে ইফতার করছেন। বিনামূল্যে এমন সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক আয়োজন তাদের মুগ্ধ করে। অনেকেই বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে যে সাম্যের চিত্র ফুটে ওঠে, তা রমজানের প্রকৃত শিক্ষা—সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ—আরও শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশ জমীয়াতুল মোদার্রেসীন ও মসজিদে গাউসুল আজম কমপ্লেক্সের মহাসচিব মাওলানা সাব্বির আহমেদ মমতাজী বলেন,রমজানের পবিত্রতায় প্রতিবছর নতুন করে প্রাণ পায় এই উদ্যোগ।

৩৫ বছরের ধারাবাহিকতায় মহাখালীর গাউসুল আজম মসজিদের এই বিনামূল্যের ইফতার আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুশীলনই নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে।

গতকাল ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তোলে ধরে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে বিশেষ আয়োজন।বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান বিশেষ মোনাজাত শেষ করেন। এ সময় এলাকার বিশিষ্টজনেরা সহ ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা উপস্থিত ছিলেন।

ইবাংলা বাএ

অনুষ্ঠিতইফতারফান্ডের