মাদারীপুরে সালিসে কথা-কাটাকাটির জেরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা ও বসতঘরে আগুন

ইবাংলা.প্রেস | মাদারীপুর প্রতিনিধি | ২৪ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুরে জামাতার বসতঘরে চুরির ঘটনায় সালিশীতে ডেকে নিয়ে ফল ব্যবসায়ী শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জামাতাসহ আহত হয় অন্তত ৫ জন।

মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তদের ৫টি বসতঘরে ভাঙচুর লুটপাট শেষে আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধরা।

নিহত ওই ফল ব্যবসায়ীর নাম জাকির শেখ (৪৭)। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও মজুমদারকাদি এলাকার নুরুজ্জামান শেখের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার রাসেল বেপারীর বসতঘরে সম্প্রতি চুরি হয়।

এই ঘটনায় থানায় লিখিত দেন ভুক্তভোগী। মঙ্গলবার সকালে একই এলাকার আব্দুল মজিদ খানের পরিবারের সাথে সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন এলাকার মাদবররা।

সেখানে উভয়পক্ষ কথাকাটার জেরে রাসেলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বাঁধা দেওয়ায় এক নারীসহ রাসেলের পরিবারের আরও ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে ফের সালিশীর কথা বলে রাসেলের শ্বশুর জাকিরকে খবর দিয়ে তার জামাতার বাড়িতে আনা হয়।

একপর্যায়ে ফল ব্যবসায়ী জাকির শেখ মাদবরদের ডাকে ওই সালিশে গেলে তার সঙ্গেও কথাকাটাকাটির জেরে তাকেও কুপিয়ে জখম করে মজিদ খান ও তার ছেলেসহ সমর্থকরা।

আরও পড়ুন…একই মামলায় জামিন পেলেন ইনু-মেনন ও বিচারপতি মানিক

পরে গুরতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষিদের বিচার দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তদের পাঁচটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনার পরে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।নিহতের স্ত্রী রেবা বেগম হাসপাতালে আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমার স্বামী গেছিল সালিশে কথা শুনতে, তারে ধইরা কোপাইয়া মাইরা ফালাইছে। হ্যারে চিইনা হুইনা মাইয়া দিল।

রামদা দিয়া কোপাইছে। আমার স্বামীর দোষটা কী? এখন আমার কী হবে। আমার স্বামীর হত্যাকারীগো বিচার চাই।’আহত রাসেল বেপারী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সামান্য চুরি বিষয়টি নিয়ে এভাবে হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা হবে, সেটা বুঝতে পারিনি। যদি বুঝতে পারতাম, তাহলে কখনোই আমার শ্বশুরকে সালিশে পাঠাতাম না।

আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’নিহতের মেয়ে তাজনুর আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা তো কোন দোষ করে নাই। তাহলে তাকে কেন কোপাইয়া মাইরা ফালানো হলো। আমার বাবার হত্যাকারী আব্দুল মজিদ খানসহ তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের ফাঁসি চাই, তাদের বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় গাঁ ঢাকা দিয়েছেন আব্দুল মজিদ খান ও তার পরিবারের লোকজন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

যারা এই হত্যার সঙ্গে দায়ী, তাদের ধরতে এরইমধ্যে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ছাড়া এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ইবাংলা বাএ

জেরেব্যবসায়ীকেহত্যা