আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্বব্যাপী খাদ্য অপচয় কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ৩০ মার্চ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাদ্য অপচয় হচ্ছে, যা মানবজাতি ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষের খাবারের সমপরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, অথচ বিশ্বের প্রায় ৯ শতাংশ মানুষ এখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এই অপচয়ের ফলে জলবায়ু, বাস্তুতন্ত্র ও মানবস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, খাদ্য অপচয় রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভোক্তারা সচেতন কেনাকাটা ও রান্নার অভ্যাস গড়ে তুলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একইভাবে খুচরা বিক্রেতারা তাদের কার্যক্রম উন্নত করে উদ্বৃত্ত খাদ্য পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে অপচয় কমাতে পারেন।
আরও পড়ুন…ইউক্রেনকে ‘কোরবানি’ দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র!
তিনি আরও জানান, শহরগুলো জৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে পারে এবং স্কুল ও হাসপাতালের জন্য খাদ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় সরকারগুলোকে জলবায়ু নীতি ও জীববৈচিত্র্য পরিকল্পনায় খাদ্য অপচয় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, আসন্ন COP30 সম্মেলনে চালু হওয়া ‘ফুড ওয়েস্ট ব্রেকথ্রু’ এবং ‘নো অর্গানিক ওয়েস্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য অপচয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এর ফলে মিথেন গ্যাস নির্গমন প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যাবে এবং একটি টেকসই ও চক্রাকার খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, খাদ্যকে সহজলভ্য মনে করার সুযোগ নেই। তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি বর্জ্যহীন খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা মানুষ ও পৃথিবী উভয়ের জন্য কল্যাণকর হবে।