যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট Meta ও YouTube-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির নেতারা। তারা এই রায়কে “ডিজিটাল জবাবদিহিতার নতুন যুগের সূচনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত রায়ে জানায়, Meta ও Google-এর মালিকানাধীন YouTube তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে ডিজাইন করেছে যা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আদালত ক্ষতিগ্রস্ত এক নারীর পক্ষে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর আগে নিউ মেক্সিকোতেও Meta-র বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি বড় রায় আসে, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হয়।ভারতীয়-আমেরিকান সমাজের বিভিন্ন নেতা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই রায়কে “ঐতিহাসিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে—
এই রায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উপর দীর্ঘদিনের দায়বদ্ধতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে, শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়নের পথ খুলে দিতে পারে
একজন বিশ্লেষক বলেন, “এটি ঠিক সেই ধরনের মুহূর্ত, যেমনটি ১৯৯০-এর দশকে তামাক শিল্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ছিল”—যা পরবর্তীতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।
আরও পড়ুন…ক্যালিফোর্নিয়ার নারী কারাগার ব্যবস্থা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্ল্যাটফর্মগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ফিচার তৈরি করেছে—যেমন “infinite scroll”, autoplay, এবং অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট—যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখে এবং আসক্তি তৈরি করে।
Meta এবং YouTube উভয়ই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এককভাবে কোনো প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় হাজারো চলমান মামলার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ বাড়তে পারে।
ভারতীয়-আমেরিকান নেতাদের মতে, এই রায় শুধু একটি মামলার ফল নয়—এটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।