দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬ সালের **জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রাপ্ত বিভিন্ন আদালতের আদেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, অবরুদ্ধ এবং কিছু ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। তিন মাসে দেশে-বিদেশে মিলিয়ে হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের পৃথক স্মারকে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে দেশে ২৯টি আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধকৃত সম্পদের মোট মূল্য ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ টাকা।
একই মাসে বিদেশে ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্পেস ও বিভিন্ন মুদ্রায় জমাকৃত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ২,২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ হিসেবে আরও ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে দেশে ক্রোক হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৬৯.২৬ একর জমি, ৪টি ভবন, ৬টি ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্পেস, দোকান ও ৬টি গাড়ি। একই সঙ্গে ৭৯টি ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, এফডিআর, বীমা পলিসি ও বি.ও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে দুদক জানায়, ২৯টি আদালতের আদেশে দেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ সম্পদের মোট মূল্য ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকা ৬ পয়সা।
আরও পড়ুন…মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান
এ সময়ে ৫৬.৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, ৬টি গাড়ি, দোকান, বাড়ি ও টিনসেড ঘর ক্রোক করা হয়। এছাড়া ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বীমা পলিসি ও একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মার্চ মাসে প্রাপ্ত ১২টি আদালতের আদেশে দেশে মোট ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ একর জমি, ভবন, টিনসেড বাড়ি, ফ্ল্যাট, পুকুর, বাণিজ্যিক স্পেস ও বাড়ি।
একই সময়ে ৭৪টি ব্যাংক হিসাব, ৮টি সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, মেয়াদী আমানত ও বি.ও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পদের তালিকা কমিশনে উপস্থাপন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পদের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।