মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ময়না কাটা নদী এখন প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় প্রবাহমান এই নদীটির দুই পাড়ে বর্তমানে গড়ে উঠেছে দাদা ভাই উপশহর নামে হাউজিং প্রকল্প,শিশুপার্ক, মডেল মসজিদ, সেখ হাসিনা টেস্কটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এবং প্রভাবশালীদের দখলে, অবৈধ ভরাট ও দখলদারিত্বের কারণে পানিশূন্য হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কয়েক বছর আগেও ময়না কাটা নদীতে সারা বছর পানি থাকত এবং এটি ছিল এলাকার কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ময়নাকাটার নীমতলা থেকে মাদারীপুরে লঞ্চে যাতায়াত ছিলো, মাদবরের চর থেকে পাচ্চর হয়ে ময়না কাটা বীল পদ্মা দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী তে যুক্ত ছিলো, পদ্মা নদী থেকে ময়নাকাটা হয়ে আড়িয়াল খাঁ নৌ পথ ছিলো উল্লেখ যোগ্য কিন্তু ধীরে ধীরে নদীর তীর দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
অনেক জায়গায় নদীর বুকে চাষাবাদ করা হচ্ছে বলেও দৃশ্যমান । এতে করে নদীর গভীরতা কমে গিয়ে পানি ধারণক্ষমতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদীটি শুকনো থাকে।
আরও পড়ুন…হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত: আইআরজিসি
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীটি মরে যাওয়ায় সেচব্যবস্থায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। আগে এই নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করা গেলেও এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দিন দিন নদীর দখল বেড়েই চলেছে।এদিকে, নদীটি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এলেও এর স্থায়ী পুনরুদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এই ময়না কাটা নদী থেকেই অতীতে কৃষি নির্ভরশীল নদীর হাট বাজার থেকে রবিশস্য, ধান পাট,বাদাম,কলাই,কালাই, ব ও পাট শিবচরে বিভিন্ন বাজার থেকে কিনে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল সহ বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হতো,নৌপথের মাধয়ামে, আজ সেই নদী এখন মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে,সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয় আশ্রম ছিলো, সারা বছর জেলেরা নদীতে মাছ ধরতো, জেলেরাও আজ বেকার হয়ে পরেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নদীটি দখলমুক্ত করে খনন ও পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই উদ্যোগ না নিলে অচিরেই ময়না কাটা নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।