বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ফিনল্যান্ড সরকার ২০ লক্ষ ইউরো অনুদান প্রদান করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, এই অর্থ দক্ষতা উন্নয়ন, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বল্প-তহবিলপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লক্ষ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যারা মিয়ানমারে নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছে। সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ পরিবার কাজের বিনিময়ে নগদ অর্থ উপার্জন করতে পেরেছিল, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ের উৎসই ছিল না।
বাংলাদেশে UNHCR-এর প্রতিনিধি Ivo Freijsen বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তহবিল হ্রাস, শিবিরের অবনতিশীল অবস্থা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ফিনল্যান্ডের এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন…আমাদের যাওয়া উচিত হয়নি ইরান যুদ্ধে: ট্রাম্প
নয়া দিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স Mari Ahmed বলেন, বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরেও রোহিঙ্গারা নতুন জীবনের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জরুরি সহায়তার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।
এদিকে জাতিসংঘ ও মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (JRP)-এর আওতায় ৭১০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল চাওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।
ফিনল্যান্ড ২০২৬ সালে UNHCR-কে অতিরিক্ত ৭ মিলিয়ন ইউরো নমনীয় মূল তহবিলও প্রদান করেছে। এই অর্থ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং উপেক্ষিত সংকটপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থায়ন অপরিহার্য।