ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের

ইবাংলা.প্রেস | ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক | ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। আরব দেশটির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইসমাইল সাইবারি, আর ব্রাজিলের পক্ষে সমতাসূচক গোলটি আসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে।

ম্যাচের আগের দিন আশরাফ হাকিমি বলেছিলেন, মরক্কো হলো ‘আফ্রিকার ব্রাজিল’। মাঠে নেমে সেই দাবির যথার্থ প্রমাণও দিয়েছে আটলাস লায়ন্সরা। শুরু থেকেই তীব্র প্রেসিংয়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে দেয় মরক্কো।

নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করতে দেয়নি প্রতিপক্ষকে। দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে প্রতিপক্ষের গোলমুখে, বিশেষকরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে।

এদিন কিছুটা চমক দেখিয়েই শুরুর একাদশ সাজায় ব্রাজিল। ইনফর্ম মাতাইস কুনিয়াকে শুরুর একাদশে না রেখে ইগর থিয়াগো নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

আরও পড়ুন…বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছিলেন না অভিজ্ঞ দানিলোও। কাসেমিরোও যেন বেশ ক্লান্ত ছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছু বদলের পর ম্যাচে প্রাণ ফিরলেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি দলটি।

মূলত ফাবিনিয়োকে মাঝমাঠে নামানোর পর ব্রাজিল যেন নিজেদের স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়। বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয় সেলেসাওরা। অন্যদিকে মরক্কো কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে হাকিমির পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা চালায় ব্রাজিল। তবে বুয়াদ্দিসহ মরক্কোর মিডফিল্ডাররা দুর্দান্ত কভার দিয়ে ভিনিসিয়ুসকে বড় সুযোগ নিতে দেননি।

ম্যাচে এদিন ২১তম মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাজিলের রক্ষণভাগে যোগাযোগের ঘাটতির সুযোগ কাজে লাগান ইসমাইল সাইবারি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার, গ্যাব্রিয়েল ও মারকিনিওসের ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে বল তুলে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে গোল করার স্বাদ পেল আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ১৯৭০ সালে পেরু এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি মরক্কো।

গোল করার পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে মরক্কো। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই তারা ১২টি শট নেয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের পর কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে ব্রাজিল এত বেশি শটের মুখোমুখি হয়নি।

তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় মরক্কোকে। বিরতির ১৩ মিনিট আগে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেলেসাওদের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা এই তারকা ব্রুনো গিমারেসের পাস বক্সের ভেতরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরের দিকে কাট করে শক্তিশালী শটে ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। লুকাস পাকেতার দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক অবশ্য বুনো কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন।

ব্রাজিলের হয়ে জয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন রাফিনিয়া। ব্রুনো গিমারেসের নিচু ক্রস গোলমুখে পৌঁছালেও সামান্য ব্যবধানে সংযোগ করতে ব্যর্থ হন তিনি।

মূলত ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে করা গোল ব্রাজিলকে বড় এক অস্বস্তিকর হার থেকে বাঁচিয়েছে। এর ফলে ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হার না মানার অবিশ্বাস্য ৯২ বছরের রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রাখে ব্রাজিল।

ইবাংলা বাএ

ব্রাজিলেরমিশনশুরু