নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুন ২০২৬

নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় পবিত্র কাবা শরিফে ঐতিহ্যবাহী কিসওয়া (গিলাফ) পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মহররম) ভোরে মসজিদুল হারামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়।

এই আয়োজন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে প্রতি বছর পালন করা হয়, যা কাবার মর্যাদা ও ইসলামি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

নতুন গিলাফ পরানোর পুরো প্রক্রিয়া সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এতে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন মসজিদুল হারামের প্রধান শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস। তার তত্ত্বাবধানে কাবার পুরোনো কিসওয়া ধীরে ধীরে সরিয়ে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়, যা ভোরের আলো ফোটার আগেই সম্পন্ন হয়।

এই ঐতিহ্যবাহী কাজ বাস্তবায়নে দায়িত্বে ছিল কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর কিসওয়া ম্যানুফ্যাকচারিং। প্রতিষ্ঠানটির দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত দল প্রায় ১০টি ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।প্রথমে কাবার চারপাশের পুরোনো গিলাফ ওপরে তোলা হয়, এরপর ধাপে ধাপে নতুন গিলাফ সেট করে সেটিকে কাবার গঠন অনুযায়ী স্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন…ইসরায়েলের জন্য বিপর্যয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংগঠিতভাবে সম্পন্ন করা হয়। কাবার চারটি দেয়ালের কাপড় আলাদাভাবে উপরে তুলে নিচে নতুন গিলাফ বসানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে পুরোনো কাপড় সরিয়ে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয় এবং তা কাবার কোণা ও ছাদের অংশের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করা হয়।

সবশেষে কিসওয়ার বিশেষ বেল্ট অংশ, যা “হিজাম” নামে পরিচিত, তা সূক্ষ্ম সেলাইয়ের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়। এরপর কাবার বিভিন্ন দিক ও কোণা সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত করে শেষ ধাপে পবিত্র কাবার দরজার বিশেষ পর্দা স্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, নতুন কিসওয়ায় মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত নকশা সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাবার বেল্ট, ঝুলন্ত অলংকার, ফানুস আকৃতির নকশা, ইয়েমেনি কোণের বিশেষ নকশা এবং মিজাব (জল নির্গমন পথ)-এর অলংকরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নান্দনিক নকশা।

প্রতি বছর কয়েক মাস আগে থেকেই কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। এতে ব্যবহৃত হয় খাঁটি প্রাকৃতিক রেশম, যার ওপর সোনালি ও রুপালি সুতা দিয়ে কোরআনের আয়াত ও ইসলামি নকশা সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই কাজ সম্পূর্ণ হাতে তৈরি হওয়ায় এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও নিখুঁত দক্ষতার দাবি রাখে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিসওয়া পরিবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, আধ্যাত্মিকতা এবং পবিত্র কাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন হিজরি বছরের প্রথম দিনেই এই আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় তা আরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

প্রতি বছরের মতো এবারও মহররম মাসের প্রথম ভোরে নতুন গিলাফে সজ্জিত হয়ে পবিত্র কাবা শরিফ নতুন হিজরি বছরকে বরণ করে নিয়েছে, যা বিশ্ব মুসলিমদের জন্য এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির মুহূর্ত।

ইবাংলা বাএ

কাবাপবিত্রহলো