মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং কিছু এলাকায় অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ঢাকা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বর্ষণ ও উজানের পানির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন…আজ প্রকাশ হচ্ছে না প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল
নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করেছে।
ইতোমধ্যে টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে ভূমিধস ও দেয়াল ধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কয়েকদিন আগে ভারী বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে সেখানে নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পাহাড়ের পাদদেশ ও নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।