কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্টারিওর ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় দেশটির সবচেয়ে বড় শহর টরন্টোর বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ধোঁয়ার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
কানাডার পরিবেশ বিভাগ জানিয়েছে, টরন্টোর বায়ুমানের স্বাস্থ্য সূচক সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে শহরটির আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও পৌঁছেছে। সেখানে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন…চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় আগুন
বায়ুমানের তথ্য বিশ্লেষণকারী একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বাতাস ছিল টরন্টোর। তালিকায় নিউইয়র্কও ছিল শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর মধ্যে।
কানাডা সরকার জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত দেশটিতে ৮৩৫টি দাবানল জ্বলছিল। এর মধ্যে ১১২টি আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যানিটোবা, সাসকাচুয়ান ও অন্টারিও প্রদেশ।দাবানলের কারণে অন্টারিওর একটি এলাকায় রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া টরন্টোয় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আয়োজিত দর্শক উৎসবও বাতিল করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমের সঙ্গে দাবানলের ধোঁয়া একসঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।