প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এ বিষয়ে দুদেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনাও চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে।
তবে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আগে ভারতকে বরং অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশ সরকার চাইছে, প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদেরকে যেন ফেরত পাঠায় ভারত।
আরও পড়ুন…অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
রোববার (১৬ আগস্ট) এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকারের এমন অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।
তিনি জানান, বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তবে, সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ফলে এই প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়েছে, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
শহীদুল করিম বলেন, আমরা এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা মনে করি যে, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি যেন তারা শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণে আমাদের অনুরোধের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।
তিনি বলেন, আমরা পুনরায় বলছি যে আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাবো।
প্রসঙ্গত, আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া, তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
তবে, সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপরই ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেয় নয়াদিল্লি।