ইসরায়েল ও ইহুদি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে নিজেদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সৌদি আরব। ইসরায়েলকে ‘খুশি করতে’ এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ সামলাতেই রিয়াদ পাঠ্যবই থেকে ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ও অনুচ্ছেদ ছেঁটে ফেলেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। বই দেখতে ক্লিক করুন
সৌদি আরবের নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, আগের পাঠ্যবইয়ে থাকা ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি ওই সংস্থার মতে, আগের বাক্যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে বলে ফুটিয়ে তোলা হতো, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বৈরিতা উসকে দিত।
আরও পড়ুন…রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী
পাঠ্যবই থেকে এই পরিবর্তনগুলো এমন এক সময়ে আনা হয়েছে, যখন ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উন্মুক্তভাবেই আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে ‘ইহুদি মন্দির’ নির্মাণের দাবি তুলছেন। এমনকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও জেরুজালেমের মূল জনমিতি বদলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর দাবি অনুযায়ী, সৌদি পাঠ্যবই থেকে তথাকথিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ সকল বিষয় বাদ দেওয়াকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। এমনকি পাঠ্যবই থেকে পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত, হাদিস এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনাও বাদ দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, অসুস্থ এক ইহুদি বালককে মহানবী (সা.) দেখতে গেলে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল—এই ঘটনাটি ২০২৫ সালের সংস্করণে বাদ দেওয়াকে অমুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে আগে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে দেখানো হতো। নতুন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেই ফিলিস্তিন নামটিই মুছে ফেলা হয়েছে।
যদিও মানচিত্রে এখনও ইসরায়েল নামটি লেখা হয়নি, তবে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নীতি থেকে সরে এসেছে সৌদি আরব। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের বদলে এখন ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুচ্ছ স্থান পেয়েছে।
বাস্তবে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজকে ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়াইজম্যান ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরে আসতে বিপুল অর্থ ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ঐতিহাসিক নথিতে এর সত্যতা থাকলেও, এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বইয়ে রাখার সমালোচনা করে একে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক বর্ণনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনকে সেই কূটনৈতিক কৌশলেরই এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।