পারমাণবিক পরীক্ষার বিধ্বংসী পরিণতির কথা স্মরণ করে বিশ্বকে আর কখনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের সাক্ষী না করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী সব রাষ্ট্রকে বিদ্যমান পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রাখার এবং ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি (CTBT) কার্যকর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষার বিধ্বংসী পরিণতি মানবজাতিকে তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যে শিক্ষা দিয়েছে, এই দিনটি তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি পারমাণবিক পরীক্ষার শিকার ও উত্তরজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক বিস্ফোরণে তাদের জীবন, ভূমি ও পরবর্তী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন…আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
তাদের দুর্ভোগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা।জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিভাজন ও অবিশ্বাসের মধ্যে ওই সতর্কবার্তায় মনোযোগ দেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছর ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার ৩০ বছর এবং সেমিপালাটিনস্ক পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ৩৫ বছর পূর্তি হচ্ছে।এসব মাইলফলক স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানবজাতি ধ্বংসের পরিবর্তে সংযমের পথ বেছে নিতে পারে এবং অবশ্যই সেই পথেই অগ্রসর হতে হবে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম নয়। বরং এসব পরীক্ষা পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে, পাল্টা পরীক্ষার পথ তৈরি করে, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেয় এবং অতীতের পারমাণবিক পরীক্ষার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রতি অবিচার করে।জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্বকে আর কখনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের সাক্ষী হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী সব রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্যমান পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রাখার পাশাপাশি অবিলম্বে ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বার্তার শেষে তিনি বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস কেন পালিত হয়, তা স্মরণ করে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের জন্য সবাইকে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।