দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৈশ্বিক সংহতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি বলেছেন, উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো নিজেদের উদ্ভাবনী সমাধান একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বলেন। ১২ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘ দিবস।
এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘সংহতির জাগরণ: অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক জোট’। মহাসচিব বলেন, এই প্রতিপাদ্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান উদ্ভাবন করছে এবং সেই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন…ফল প্রকাশ এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের
তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে কৃষকদের খাপ খাইয়ে নেওয়া, উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য বৈশ্বিক জোট’-এর যাত্রা একটি নতুন ও উদ্দীপনাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকার, উন্নয়ন ব্যাংক, শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি খাতকে একত্রিত করে এই জোট জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে সহায়তা করবে।তার ভাষায়, এই উদ্যোগ ধারণাকে বিনিয়োগের সঙ্গে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করবে।
তবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অগ্রগতি উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব কমিয়ে দেয় না বলেও সতর্ক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে এবং উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে উন্নত দেশগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে।
বর্তমান বিভাজন ও সংঘাতপূর্ণ সময়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৈশ্বিক সংহতি পুনরুদ্ধারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একত্রিত থাকলে বিশ্ব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
দিবসটি উপলক্ষে তিনি আহ্বান জানান, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে উদ্ভাবিত কার্যকর সমাধান যেন সর্বত্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজে লাগে। সমতা, সমৃদ্ধি ও শান্তির লক্ষ্যে সীমানা পেরিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।