জলবায়ু মোকাবিলায় এআই উদ্ভাবন, চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের ক্লাইমেট অ্যাকশন কো-পাইলট

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের ‘এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ চার দেশের পাঁচটি উদ্ভাবন।

Islami Bank

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রযুক্তি ব্যবস্থা ও কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) অংশীদারত্বে আয়োজিত এ পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন কো-পাইলট’ স্থান পেয়েছে।

আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর কম্বোডিয়ার নমপেনে অনুষ্ঠিতব্য ‘এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম ২০২৬’-এ চূড়ান্ত প্রতিযোগীরা নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরবেন। এ ফোরামেই ঘোষণা করা হবে এবারের পুরস্কার বিজয়ীর নাম।

আরও পড়ুন…অক্টোবরের ৯ দিনেই ডেঙ্গুতে অর্ধশত মৃত্যু

বাংলাদেশের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন কো-পাইলট’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভূ-স্থানিক তথ্য ব্যবহার করে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী এবং অবকাঠামো শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

এর মাধ্যমে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযোজনমূলক বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে।

চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, তানজানিয়া ও মালির উদ্ভাবন স্থান পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ‘এআই-মরিস’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপগ্রহচিত্র ও ড্রোনের সাহায্যে তিমুর-লেস্তেতে উপযুক্ত স্থানীয় বৃক্ষ প্রজাতি শনাক্ত এবং অবক্ষয়িত জলাশয় পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

তানজানিয়ার ‘ফায়ারপ্রেডিক্ট’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপগ্রহচিত্র ও আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহার করে দাবানলের পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতা দেওয়ার উদ্যোগ।

দেশটির আরেক উদ্ভাবন ‘ক্লাইমেইড’ জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন, খরার পূর্বাভাস, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অভিযোজন পরিকল্পনা ও জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, মালির ‘ক্লাইমেটভয়েস এআই’ স্থানীয় ভাষায় জলবায়ু সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। কণ্ঠবার্তা, খুদে বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ ও রেডিওর মাধ্যমে মানুষের কাছে সহজবোধ্য আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জলবায়ু মোকাবিলার কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে এর জন্য প্রযুক্তিটির উদ্দেশ্যমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব ইতিমধ্যে দ্বি-গতির পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এই বৈষম্য কমাতে সহায়তা করতে হবে, বাড়াতে নয়।

স্টিয়েল আরও বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এমন প্রযুক্তি প্রয়োজন, যা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সব সমস্যার সমাধানে বড় ও জটিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের প্রয়োজন নেই। বরং কম খরচ, কম জ্বালানি ও কম জটিলতায় কার্যকর ফলাফল দিতে পারে—এমন প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

one pherma

তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবেশগত প্রভাব কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর জ্বালানি ও সম্পদ ব্যবহারের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে প্রযুক্তিটিকে জলবায়ু সংকটের সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’ পুরস্কার জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনে সহায়তাকারী উদ্ভাবনী এবং উন্মুক্ত প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধানকে স্বীকৃতি দেয়।

বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে পরিচালিত উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১০টি দেশ থেকে এ পুরস্কারের জন্য ৬০০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

২০২৬ সালের উদ্যোগটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রযুক্তি নির্বাহী কমিটি (টিইসি), জলবায়ু প্রযুক্তি কেন্দ্র ও নেটওয়ার্ক (সিটিসিএন) এবং কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার অংশীদারত্বে আয়োজিত হচ্ছে।

দুই দিনব্যাপী ফোরামে নীতিনির্ধারক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক ও উন্নয়ন সহযোগীরা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করবেন।

এতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল ব্যবহার, অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সফল উদ্ভাবন বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ফোরামে দেওয়া ভিডিও বার্তায় স্টিয়েল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই মূল উদ্দেশ্য।

প্রযুক্তির সুফল যেন উন্নয়নশীল দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, সে জন্য দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন কো-পাইলট’-এর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া জলবায়ু ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং অভিযোজনমূলক বিনিয়োগের পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

নমপেনের ফোরামে চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের উপস্থাপনা ও বিজয়ী ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ উদ্ভাবনগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু কার্যক্রমে প্রযুক্তির ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us