এনবিআরের এক কমিশনারসহ আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৪ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কমিশনারসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন…ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা অনুমোদন
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন: কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন – কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, ঢাকা পূর্ব, মো. কামরুজ্জামান – কমিশনার, বেনাপোল কাস্টমস হাউস, মো. মামুন মিয়া – উপ-কর কমিশনার, সেহেলা সিদ্দিকা – অতিরিক্ত কর কমিশনার, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট, লোকমান আহমেদ – কর পরিদর্শক, কর অঞ্চল-২
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা করদাতাদের প্রকৃত কর কমিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করতেন। এমনকি ঘুষ না পেলে ভুয়া কর ফাঁকির মামলা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গত মাসে এনবিআর বিলুপ্তির প্রতিবাদে সংগঠনটি ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করে। এই আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন সেহেলা সিদ্দিকা। পরবর্তীতে সরকারের আশ্বাসে ২৯ জুন আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
তবে আন্দোলন স্থগিত হলেও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে ঐক্য পরিষদের নেতারা অনড় অবস্থান নেন। এনবিআর কার্যালয়ে চেয়ারম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ১ ও ২৯ জুন মোট ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তারা অধিকাংশই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন।
এ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ১৬ এনবিআর কর্মকর্তা দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এলেন।
আরও পড়ুন…জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কর ফাঁকির অভিযোগ
দুদকের একজন পরিচালক জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “এটি কোনোভাবেই আন্দোলনকারীদের হয়রানি নয় বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া একটি স্বাধীন পদক্ষেপ।”
এদিকে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সংস্কারমুখী কর্মকর্তাদের টার্গেট করতেই এসব অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
ইবাংলা/বা এ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.