দুদকের তিন অভিযানে উঠে এসেছে অনিয়ম ও আত্মসাতের চিত্র
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ জুলাই ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট আজ ২৫ জুলাই তিনটি পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সমবায় অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
অভিযান ০১: সমবায় অধিদপ্তর, আগারগাঁও, ঢাকা:
‘সমবায় মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট প্রকল্প’-এ বিভিন্ন অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আজ সমবায় অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে।
টিমের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের ৭টি বিভাগের ৯টি জেলার ১০টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর আওতায় মোট ৫০০০ উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে ১০টি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে এবং এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে ১০টি কমিউনিটি ভবন। এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩৫৩.০২ লক্ষ টাকা।
এছাড়া ২২৬৮ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ১৫০০ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে ১২টি প্রদর্শনী মৎস্য খামার এবং আয়োজন করা হয়েছে ৫টি কর্মশালা।
আরও পড়ুন…২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ; সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩১জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে এবং আরও এক বছরের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। টিম অভিযানের সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য গ্রহণ করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অনিয়মের প্রমাণ প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানায় দুদক।
অভিযান ০২: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইল জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন টিম সদস্যরা। কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও ইন্সট্রাক্টরদের বরাতে জানা যায়, প্রশিক্ষণ বাবদ যাবতীয় ব্যয়ের বিল ভাউচার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে তা অনুমোদনের পর প্রতি চার-পাঁচ দিন পর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কো-অর্ডিনেটরের কাছে অর্থ প্রেরণ করা হয়।
অনলাইন ক্লাস সংক্রান্ত খরচের ক্ষেত্রে অর্থ বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযান ০৩: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর:
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদারীপুর জেলার সমন্বিত কার্যালয় থেকে একটি টিম গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্য গ্রহণ, রোগীদের ওয়ার্ড পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরের পাইজাম চালের ভাতের পরিবর্তে নিম্নমানের মোটা চালের ভাত সরবরাহ করা হচ্ছে।

চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে প্রদান না হওয়ার পেছনে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অনুপস্থিতি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানকালে সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.