৯৬০ কোটি টাকার জালিয়াতিতে সাবেক মন্ত্রীসহ ৫৯ বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ জুলাই ২০২৫

বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ইউসিবিএল-এর সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবিএল)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ৫৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ৯৫০ কোটি এবং ইউসিবিএল-এর ১৫ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা উঠে এসেছে।

Islami Bank

ইসলামী ব্যাংকের ৯৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি:
মার্কেট মাস্টার এনালাইজার নামক একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, গুলশান সার্কেল-১ শাখা থেকে ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আসামিদের মধ্যে মার্কেট মাস্টার এনালাইজারের চেয়ারম্যান মো: শরিফুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহ আলম এবং নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্ণধার আমিনুল ইসলাম ওরফে স্বপন ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্পোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন-১ ও ইনভেস্টমেন্ট কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ এই জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই ৯৫০ কোটি টাকার ভুয়া ডিল সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তৈরি করেন।

এই রেকর্ডপত্র ব্যবহার করে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক অসদাচরণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বাই-মুরাবাহা টিআর বিনিয়োগ প্রস্তাবনা অনুমোদন, বিতরণ ও উত্তোলন করে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেন।

আত্মসাৎকৃত অর্থের উৎস ও প্রকৃতি গোপন করার জন্য স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধও সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে এই বিনিয়োগ ঋণটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় মন্দ ঋণ হিসেবে শ্রেণীকৃত করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের তালিকা:

১. মো: শরিফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান মার্কেট মাস্টার এনালাইজার
২. মো: শাহ আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মার্কেট মাস্টার এনালাইজার
৩. মো: মোজাহিদুল ইসলাম, ইভিপি ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, গুলশান সার্কেল-১ শাখা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
৪. মো: কাইয়ুম সিকদার, এভিপি ও সাবেক অপারেশন ম্যানেজার, গুলশান সার্কেল-১ শাখা
৫. মো: জহুরুল হক, সাবেক ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ, গুলশান সার্কেল-১ শাখা
৬. মো: আব্দুল কাইয়ুম, এফএভিপি, গুলশান সার্কেল-১ শাখা
৭. মাহমুদুর রহমান, ডিএমডি, এসআই ডব্লিউ (বিশেষ বিনিয়োগ উইং) প্রধান
৮. মো: নাজমুল হুদা সিরাজী, সাবেক এসভিপি (বর্তমানে স্বেচ্ছায় অবসরে), ঢাকা সেন্ট্রাল জোন, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
৯. মো:আলমগীর হোসেন, এফএভিপি ঢাকা সেন্ট্রাল জোন, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
১০. মোঃ কামরুজ্জামান, এভিপি, সিআইডি-১, প্রধান কার্যালয়
১১. মোঃ মমতাজউদ্দিন চৌধুরী, ভিপি, ধোলাইখাল শাখা
১২. মিফতাহ্ উদ্দিন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন ডিএমডি
১৩. মুহাম্মদ কায়সার আলী, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
১৪. মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
১৫. মোহাম্মদ শাব্বির, এসইভিপি, আইটিডাব্লিউ, আইসি-০১, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
১৬. মোহাম্মদ উল্লাহ, এসইভিপি, আইএমডাব্লিউ
১৭. প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
১৮. সৈয়দ আবু আসাদ, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির সদস্য, ও প্রতিনিধি এক্সিলেসর ইমপেক্স কোম্পানী লি:
১৯. ড. তানভীর আহম্মদ, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রতিনিধি প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল লিঃ
২০. মো: কামরুল হাসান, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রতিনিধি গ্রান্ড বিজনেস লিমিটেড
২১. প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের শিক্ষক
২২. প্রফেসর ড. মোঃ ফসিউল আলম, তৎকালীন নির্বাহী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের শিক্ষক
২৩. মোহাম্মদ মুনিরুল মওলা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য সচিব
২৪. জেকিউএম হাবিবুল্লাহ্, এফসিএস, এএমডি ও কোম্পানী সচিব
২৫. মো: আমিনুল ইসলাম, মালিক/সত্ত্বাধিকারী: শিমুল এন্টারপ্রাইজ ও এমডি, নাবিল গ্রুপ
২৬. ইসরাত জাহান, স্বামী: মো: আমিনুল ইসলাম, মালিক: নাবিল ট্রেডিং
২৭. শহিদুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসআলম ভিজিটেবল ওয়েল
২৮. ফারজানা পারভীন, স্বামী: সাইফুল আলম মাসুদ, চেয়ারম্যান, এসআলম ভিজিটেবল ওয়েল
২৯. মিশকাত আহমেদ, এমডি, এসআলম সুপার এডিবল ওয়েল
৩০. শাহানা ফেরদৌস, স্বামী: আব্দুস সামাদ, চেয়ারম্যান, এসআলম সুপার এডিবল ওয়েল

ইউসিবিএল-এর ১৫ কোটি টাকার জালিয়াতি: সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা:
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবিএল)-এর ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ইউসিবিএল-এর সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলায় ইউসিবিএল-এর পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম এবং প্রধান কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট লি.-এর একজন কর্মচারীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘রিলায়েবল ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়।

২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট ইউসিবিএল-এর পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়, যা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই খোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ২৩ কোটি টাকার টাইম লোনের জন্য ভুয়া আবেদন করা হয়।

শাখার তৎকালীন ক্রেডিট অফিসার, ক্রেডিট ইনচার্জ, ম্যানেজার অপারেশন এবং শাখা প্রধান মিথ্যা তথ্য সংবলিত পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করেন।

ইউসিবিএল-এর প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটি নয়টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ড অব ডিরেক্টরস সভায় এই ঋণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

১৯ নভেম্বর ঋণ অনুমোদনপত্র ইস্যু করা হয়। পরে, ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ১৫ কোটি টাকা রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের চলতি হিসাবে জমা করার পর ৯টি চেকের মাধ্যমে ১৪.৯৮ কোটি টাকা শাখার জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

এই অর্থ পরবর্তীতে আটটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ইউসিবিএল-এর কারওয়ান বাজার শাখার মডেল ট্রেডিংয়ের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। মডেল ট্রেডিং থেকে ৬.৫ কোটি টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট পিএলসি-এর হিসাবে জমা করে পূর্বের ঋণ পরিশোধ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায় পরিশোধ করা হয়।

one pherma

একইভাবে, ইউসিবিএল-এর পোর্ট শাখার জেনারেল লেজার থেকে চারটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সদরঘাট শাখার ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে ৩.৩০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লি.-এর হিসাবে জমা করে পূর্বের ঋণ ও দায় পরিশোধ করা হয়।

মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিকরা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কর্মচারী ও সহযোগী বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের অবশিষ্ট অর্থ সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেনা পরিশোধে ব্যবহৃত হয়।

অভিযুক্তদের তালিকা:

১. সাইফুজ্জামান চৌধুরী (৫৬), সাবেক ভূমিমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
২. রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক চেয়ারম্যান, ইউসিবি পিএলসি, স্বামী- সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
৩. আবু হেনা মো: ফখরুল ইসলাম (৪০), সাবেক অফিসার, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৪. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী (৫৮), সাবেক ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৫. জিয়াউল করিম খান (৪৬), সাবেক ক্রেডিট অফিসার, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৬. মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল (৫৮), সাবেক এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৭. মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২), সাবেক এফএভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৮. আব্দুল হামিদ চৌধুরী (৫০), সাবেক ভিপি ও শাখা প্রধান, ইউসিবি পিএলসি, পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম।
৯. মোহাম্মদ মিছাবাহুল আলম (৫০), স্বত্বধিকারী- মডেল ট্রেডিং ও এও, আরামিট পিএলসি।
১০. মোঃ আব্দুল আজিজ (৩৯), স্বত্বধিকারী- ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং ও এজিএম, আরামিট পিএলসি।
১১. শাহরিয়ার হোসেন (৪৯), ডিজিএম, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লি.।
১২. বজল আহমেদ বাবুল (৫৬), সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ইউসিবি পিএলসি।
১৩. আনিসুজ্জামান চৌধুরী (৫৩), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৪. আখতার মতিন চৌধুরী (৭৪), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৫. এম এ সবুর (৭৭), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৬. ইউনুছ আহমদ (৭৯), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৭. নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৮. আসিফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
১৯. রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২০. বশির আহমেদ (৫৫), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২১. আফরোজা জামান (৪৮), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২২. সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৩. মো: শাহ আলম (৬২), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৪. প্রফেসর ড. মো: জোনাইদ শফিক (৬৪), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৫. ড. কনক কান্তি সেন (৬০), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৬. ড. অপরূপ চৌধুরী (৬৫), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৭. তৌহিদ সিপার রফিকজ্জামান (৬৬), সাবেক পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি।
২৮. মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ম্যানেজার (ক্যাশ) [বর্তমানে এজিএম (ক্যাশ)], আরামিট সিমেন্ট লি.।
২৯. অন্যান্য অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ফিরোজের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা:
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএমপি, পল্লবী জোন) নাজমুল হাসান ফিরোজের বিরুদ্ধে ১,৭৫,৪০,৯২০/- টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নিজ ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নাজমুল হাসান ফিরোজের মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য ২,৩২,৫০,৭৩১/- টাকা, যার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় ৫৭,০৯,৮১১/- টাকা। এতে ১,৭৫,৪০,৯২০/- টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী আদেশ জারীর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারা হলেন:

জনাব মোঃ এনামুল হোসাইন (ছোট ভাই)

জনাব নাজমা বেগম (মা)

জনাব এ.কে.এম ছায়াদত হোসেন বকুল (শ্বশুর)

জনাব মোঃ নিজাম উদ্দিন পান্না (মামাতো ভাই)

জনাব মোঃ মোস্তফা খান (শ্বশুরের ব্যবসায়িক পার্টনার)

মসিহ মালিক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগে মামলা:
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মসিহ মালিক চৌধুরী এফসিএ (৭০) তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৭,৫৩,৮৪০/- টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৮২,৯০,৮৭৯/- টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মসিহ মালিক চৌধুরীর নামে মোট ৩,৬৬,৪৩,২৩১/- টাকার স্থাবর সম্পদ ও ২,৯৫,৬২,৩৩৪/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। দায়-দেনা বাদে তার নীট সম্পদের পরিমাণ ৬,৫৪,২৭,৪৮৪/- টাকা।

পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার নীট সম্পদ ৯,৪৭,১৮,২২৫/- টাকা। এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮,৬৪,২৭,৩৪৬/- টাকা। অর্থাৎ, তার জ্ঞাত আয়ের সাথে ৮২,৯০,৮৭৯/- টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে। এছাড়া, দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি ১৭,৫৩,৮৪০/- টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us