দুদকের সারা দেশে দুর্নীতি দমনে ৪ অভিযানে অনিয়ম উন্মোচন

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ আগস্ট ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সারা দেশে একযোগে চারটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যখাত ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির নানা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

Islami Bank

অভিযান ০১:
রাজধানীর মিরপুর-১ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মিত প্লট বরাদ্দ ও অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাণের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় সেট-ব্যাক রাখা হয়নি।

ফলে রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পে নকশা পরিবর্তন ও অবৈধ প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাইয়ে রাজউক থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন…কারাগারে হার্ট অ্যাটাক সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের

অভিযান ০২:
রংপুর সদর উপজেলায় অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক। টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানায় দুদক। বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে।

অভিযান ০৩:
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রোগীদের খাবার নির্ধারিত ডায়েট চার্ট অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে না; দেশী মুরগির বিল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্রয়লার মুরগি সরবরাহ করা হচ্ছে। ওষুধের স্টক রেজিস্ট্রার ও মজুদের মধ্যে গরমিলও পাওয়া গেছে।

one pherma

এছাড়া হাসপাতালের ওয়াশরুমগুলো ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং অধিকাংশ ভর্তি রোগী নিয়মিত খাবার পাচ্ছিল না। এসব অনিয়ম প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে দুদক টিম।

অভিযান ০৪:
পঞ্চগড় সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। দুদক টিম ছদ্মবেশে দীর্ঘসময় অবস্থান করে ৪ জন দালালকে আটক করে।

উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়। দুদক বলছে, উক্ত দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

দুদক জানায়, অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us