শেখ হাসিনা ও কামাল নিরপরাধ, তাদের খালাস চাই: স্টেট ডিফেন্স আমীর হোসেন

ইবাংলা.প্রেস | ইবাংলা ডেস্ক | ২০ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরপরাধ দাবি করে তার খালাস চেয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন।

Islami Bank

সোমবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আলোচিত এ মামলায় আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এমনটা দাবি করেন তিনি।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রথম দিনের মতো শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এক ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা নিরপরাধ। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের খালাস চাই।

স্টেট ডিফেন্স আমীর হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব চার্জ (অভিযোগ) আনা হয়েছে, এগুলো সঠিক নয়। আমার অভিমত, সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি।

যেহেতু সাক্ষ্য-প্রমাণে তা প্রমাণ হয়নি, সেহেতু আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের খালাস প্রত্যাশা করি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) টানা পঞ্চম দিনে এসে শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। পরে সেদিনই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সোমবারের দিন ধার্য করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আরও পড়ুন…শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন: রপ্তানিকারকদের ৬ দফা দাবি

one pherma

এই মামলায় প্রসিকিউশন থেকে ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে মামলার মূল দুই আসামি পলাতক থাকায় কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের সুযোগ পাননি তারা।

সবশেষ বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে শুনানিতে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় শেখ হাসিনাকে ১৪শ’ বার ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত বলে মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর।

সেই সঙ্গে এদিন শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের সাজার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এছাড়াও ফ্যাসিস্টের মাস্টারমাইন্ড ও তাদের দোসরদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে শহিদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিও জানানো হয় আদালতে।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার।

এরমধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহিদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। অন্যদিকে সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us