প্রধান উপদেষ্টাকে ৬ আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ চিঠি: আ’লীগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২ সুপারিশ
ইবাংরা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ অক্টোবর, ২০২৫
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে। সংস্থাগুলো চিঠিতে বলেন, জাতিসংঘের ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ব্যাহত হবে।
আরও পড়ুন…শেখ হাসিনা ও কামাল নিরপরাধ, তাদের খালাস চাই: স্টেট ডিফেন্স আমীর হোসেন
রোববার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েব সাইটে চিঠিটি প্রচার করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচারহীনতা বন্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হলো—সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
চিঠিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও এখনো নিরাপত্তা খাতে সংস্কার হয়নি। তারা র্যাব বিলুপ্তি, ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা সীমিত করা, গুম ও নির্যাতনের বিচার, এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
সংস্থাগুলো আরও বলে, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ করে তাদের চলাচল, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫ ও অন্যান্য দমনমূলক আইন সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হলে তা জনগণের ভোটাধিকারের পরিপন্থী হবে।” মানবাধিকার সংগঠনগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানায়।
চিঠিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়ঃ
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার: জুলাই বিপ্লব ও গত পনের বছরে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (ICT) পূর্ণ স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দিতে হবে। সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীকে এই বিচারে সহযোগিতা করতে হবে।
নিরাপত্তা খাত সংস্কার: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর ক্ষমতা সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়।
গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি ও এ সংক্রান্ত কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে বলা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার: প্যারিস প্রিন্সিপলস অনুযায়ী কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
আইন সংস্কার: সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও ফৌজদারি দণ্ডবিধির মানহানি ধারা সংশোধন বা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা: রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি বন্ধ ও মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার: আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা পর্যালোচনা ও বাতিল করতে বলা হয়।
সিভিল সোসাইটি ও এনজিও খাতে স্বাধীনতা: এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো সংস্কার ও বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়।
রোহিঙ্গা সুরক্ষা: রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ, চলাচল ও শিক্ষার সীমাবদ্ধতা শিথিল, এবং মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়।
সবশেষে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও হস্তান্তরে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.