ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের বাড়িখলা গ্রামের বিলের পূর্ব পাশে অন্যদিকে বিটঘর ইউনিয়নের ভদ্রগাছা গ্রামের পশ্চিম দিকে,এই দুয়ের মাঝ খানে বুড়ি নদীর তীর ঘেঁষে চলছে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব। দিনের আলোতে এবং রাতের অন্ধকারেও বেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে নদীর পাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি
ডাকাতি করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব মাটি স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদীর পাড় কেটে নেওয়ার ফলে আশপাশের ফসলি জমিগুলো মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান দিনে এবং রাতে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বড় বড় স্টিলের বাল্কহেডে তোলা হয়। পাশে গিয়ে দেখা যায় নদীর পাড় গর্তে ভরা। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার ফলে ধারণ করা হচ্ছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
সূত্রে জানা গেছে, নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের কামাল মিয়া দির্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকেই এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছেন। এবং লাখ লাখ টাকার মাটি কাছাকাছি ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
এলাকাবাসী আরো বলেন মাটি খেকু কামাল মিয়া আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন, আর এসব অবৈধ টাকা দিয়ে নিজ এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করতে যাচ্ছেন একটি বিল্ডিং বাড়ি।মাটি কাটার সরকারি অনুমোদিত বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কিনা মুঠোফোনে কামাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তাকে পাওয়া যায় নি।
নভেম্বর মঙ্গলবার সরে জমিনে নদীর পাড়ে গিয়ে মাটি কাটার এসব চিত্র দেখা যায়, উপস্থিত শ্রমিকগণ সাংবাদিকদের আসার খবরে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাইলে অবৈধভাবে মাটি কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমরা কুড়িঘর গ্রামের কামাল মিয়ার নির্দেশে কাজ করি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ নদীর দুই পাড়ের কৃষকেরা দ্রুত অবৈধভাবে নদীর পাড়ের মাটিকাটা বন্ধের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।পরিবেশ বিদদের মতে, এভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করলে নদীর প্রবাহ পরিবর্তন হয়ে ফসলি জমিগুলো মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী বলেন,অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে অভিযান চালানো হবে। নদীর সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.