লাইসেন্স বিহীন করাত-কল গিলে খাচ্ছে

নুরুল কবির বান্দরবান

বান্দরবান পাবত্য জেলার আলীকদম উপজেলায় ‘করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২’ না মেনেবিনা লাইসেন্সে ৬টি করাত-কলে দিনে-রাতে শত শত ফুট কাঠ চিরাই হচ্ছে। ‘করাত-কল স্থাপন ওপরিচালনার ক্ষেত্রে পালনীয় শর্তাদি’র কোনটির তোয়াক্কা করছে না করাত-কল পরিচালনাকারীরা।জানা গেছে, করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা ২০১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিতও অন্য যে কোন ধরণের সরকারী বনভূমি ও আন্তর্জাতিক স্থল সীমানার ১০ কিলোমিটার এর মধ্যে করাত কল স্থাপন করা যায় না।

Islami Bank

অথচ আলীকদম উপজেলার লাইসেন্স বিহীন করাত-কলসমুহ সরকারী বনভূমির একেবারে কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। যা ১০ কিলোমিটারের কম। স্থানীয় আলী আকবর নামের এক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগে জানা গেছে, ‘লাইসেন্স বিহীন অবৈধ করাত কলে প্রতিদিনই চিরাই হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ। যার বেশীরভাগ কাঠ সংগ্রহ করা হয় সংরক্ষিত বনভ‚মি মাতামুহুরী রিজার্ভ থেকে। বিনা রাজস্বে অবৈধভাবে সংগৃহিত চিরাই কাঠ স্থানীয় ফার্নিচার দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের এ ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, ‘ইতোপূর্বে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) করাত-কল বিধি অনুসরণ না করে করাত-কল স্থাপন করা হয়েছে মর্মে জেলা প্রশাসনকে পত্র দেন। জেলা প্রশাসন থেকে জারী করা এক পত্রে অবৈধ করাত-কলগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের দেড়যুগ পরও করাত-কলগুলো অপসারণ হয়নি। বন্ধ হয়নি করাত-কলের ধ্বংসলীলা। বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, মে ২৭, ২০১২ তারিখ প্রকাশিত ‘করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা ২০১২’ এর ৭ ধারায় করাত-কল স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে পালনীয় শর্তাদি হিসেবে বলা হয়েছে,

one pherma

সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত বা অন্য যে কোন ধরনের সরকারি বন ভূমির সীমানা হইতে ন্যূনতম ১০(দশ) কিলোমিটারের মধ্যে এবং কোন সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিঘœ সৃষ্টি করে এইরূপ কোন স্থানের ন্যূনতম ২০০ (দুইশত) মিটার এর মধ্যে করাত-কল স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।’ সরেজমিন দেখা গেছে, করাত-কল বিধি মালা ২০১২ এর ৭ নং ধারার পুরোপুরি লঙ্ঘন করে স্থাপিত ও পরিচালিত হচ্ছে বেশীরভাগ করাত-কল। করাত-কলের কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে লামা বন বিভাগের আওতাধীন মাতামুহুরী রিজার্ভের। প্রতিটি করাত-কলে রাতদিন যেসব গাছ চিরাই হচ্ছে তার ৯০% ভাগ রিজার্ভ ফরেস্টের।

করাত-কলে চিরাই করা গাছের সবটুকই উপজেলা শতাধিক ফার্নিচার দোকানে অবৈধভাবে ফার্নিচার তৈরীর কাজে হজম করা হয়। এ ব্যাপারে লামা বিভাগের তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন করাত-কল স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু আলীকদমের সব ক’টি করাত- কল এই আইন না মেনে অতীতে স্থাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন চাইলে অভিযান হতে পরে।

ইবাংলা /জেএন /৭ এপ্রিল,২০২২

Contact Us