পদ্মা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী

রাজবাড়ি ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

রাজবাড়ীতে পদ্মা তীরবর্তী ৪ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

Islami Bank

জানা গেছে, জেলার ৪টি উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী নিম্ন ও নিম্নাচরাঞ্চলের ১৩টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নিম্ন ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় থাকা, খাওয়া ও চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বন্যা কবলিতরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষেত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে ৭২ সেন্টিমিটার এবং রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বেড়েছে পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে। এই পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক জানান, জেলায় ১০ হাজার ১৩৭টি পানিবন্দী পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের সহায়তা করতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। দুর্গতদের জন্য এখন পর্যন্ত ২৪৮ মেট্রিকটন চাল ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

হঠাৎ করে গেল দুই দিনে শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

one pherma

জানা গেছে, পদ্মা তীরবর্তী নড়িয়া উপজেলায় ৫টি, জাজিরায় ৭টি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৪টি করে ৩টি উপজেলার মোট ১৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে এসব এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে নড়িয়া-জাজিরা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকার কাচা-পাকা অনেক রাস্তা।

নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরেও ঢুকেছে বন্যার পানি। সাপ-বিচ্ছু ও পোকা-মাকড়ের ভয়ে আতংকে দিন কাটছে তাদের। এদিকে অনেকের বসতঘর, রান্নাঘর, গভীর নলকূপ ও শৌচাগার তলিয়ে গেছে। এছাড়া বেশকিছু স্থানে অব্যাহত রয়েছে নদী ভাঙন।

জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের কাজ করে যাচ্ছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইই

Contact Us