মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপের ফসল পদ্মা সেতুঃ জবি উপাচার্য

জবি প্রতিনিধিঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপের ফসল পদ্মা সেতু বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক। পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শনিবার (২৫ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত আনন্দ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা কালের সাক্ষী হিসেবে বিশেষ মূহুর্তে আজকের ইতিহাসে আমাদের এই ক্ষুদ্র আয়োজন।

Islami Bank

পদ্মা সেতু করতে গিয়ে কত ধরনের ষড়যন্ত্র যে হয়েছিলো তা সবাই জানি। টাকা লেনদেন হয়নি তবুও আমাদেরকে দূর্নীতির তকমা দেওয়া হয়েছিলো। নানা রকম তালবাহানা উপেক্ষা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপের কারনে আজ পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কারো কাছে মাথানত করে নাই। মাথা উঁচু করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এ দেশকে।

দিনব্যাপী আনন্দ অনুষ্ঠানে বড় পর্দায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এসময় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, ভিনদেশিদের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক তালবাহানা করলো। এরপর সেতুমন্ত্রী সহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা সবাইকে পদত্যাগ করতে হলো। এরপর ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করলো। এরপরেও থেমে থাকেন নাই আমাদের নেত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দেন নিজেদের টাকায় হবে পদ্মা সেতু, প্রধানমন্ত্রীর এমন সাহসী পদক্ষেপের জন্য তাকে স্যালুট জানাই। প্রধানমন্ত্রীকে আপনাকে ধন্যবাদ।

তিনি আরো বলেন,কাঠালবাড়ী মাওয়াতে আবহাওয়া খারাপ হলেই ফেরি বন্ধ এম্বুলেন্স এ রোগী মারা যায়, কৃষক তার ফসল নিয়ে আসতে ঢাকাত আসতে পারে না, এতে তাদের কষ্ট দ্বিগুন ছিল৷ এখন তাদের আনন্দের দিন,তাদের সুখের দিন। তাই বলতে ইচ্ছা করে হে পিতা আপনি দেখুন আপনার কণ্যা কথা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন এই জাতিকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না আপনার কথা আজ প্রমানীত। বাঙালির পক্ষে সব সম্ভব, আপনি দেখেন জাতির পিতা এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের ভিতর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বক্তব্যদান কালে বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে ২১ টি জেলার মানুষ সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন যার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশনেত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। সবাই যারা কাজ করেছিল সবাইর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। যারা লোভ করেছিলেন বিরোধিতা করেছিলেন সবাইকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিয়েছেন এটাই বঙ্গবন্ধুর শিখানো উদারতা। তার নেতৃত্ব দেশ থাকলে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ।

one pherma

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.অরুন কুমার গোস্বামী বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। সেই সাথে দক্ষিনাঞ্চলের সাথে বন্ধন হয়ে গেলো। তিনি বলেন আমার বাড়ি মাদারীপুর হওয়ার এই সেতুর গুরুত্ব খুব ভালো মতই উপলব্ধি করছি।পদ্মা পাড় দিতে যে কত এক্সিডেন্ট হয়েছে তার হিসাব নেই।এই সেতু উদ্বোধন করে এখন অমর একটি কীর্তি গড়লেন শেখ হাসিনা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আজ ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে গেলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ কত বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা নদীতে সেতু হবে এটা ছিল এক মেগা পরিকল্পনা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে দেশ। দেশে পদ্মা সেতু চালু হলো, ধীরে ধীরে মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল চালু হবে। চারিদিকে এত উন্নয়ন দেখে দিক হারালে চলবে না সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এছাড়া শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃইব্রাহিম ফরাজি বলেন, আমরা জানি যে অনেক বাধা বিপত্তি আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আজ পদ্মা সেতু বাস্তব। সকল কিছু মোকাবেলা করে গনতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সফল সবাই তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা কারো কাছে কখনো মাথা নত করে না। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলো ধীরে ধীরে উন্নতির শিখরে এগিয়ে যাবে সোনার বাংলাদেশ।

আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা হয় এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্ণিল বাতিতে আলোকিত করা হয়েছে। এছাড়া সংগীত বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইবাংলা / জেএন / ২৫ জুন,২০২২

Contact Us