রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত

পবিত্র মাহে রমজান বছরের শ্রেষ্ঠ ও বহুবিধ কল্যাণ এবং ফজিলতের মাস। এই মাসে নেক আমলের সওয়াব রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেন। আর তাই এ মাসে আল্লাহর বান্দারা যেভাবে পারেন, সওয়াব ও কল্যাণের কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন এবং পারস্পরিক উত্তম আমলের প্রতিযোগিতা করেন।

Islami Bank

আরও পড়ুন… ইসলামের অনুসারীদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে কি ধর্ম (ইসলাম) প্রযোজ্য 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের বলে দিয়েছেন, এ (রমজান) মাস হলো- সহমর্মিতার মাস। (শোয়াবুল ঈমান: ৩৩৩৬)

রমজানের রোজা পালন শেষে রোজাদাররা ইফতার করে। ইফতারের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন। তা ছাড়া রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। এবং রোজাদারের সওয়াবও কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)

যায়েদ ইবনে খালেদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে রোজাদারের সম পরিমাণ সওয়াব পাবে; রোজাদারের সওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৪৬; ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৮/২১৬; সহিহ আল-জামে, হাদিস : ৬৪১৫)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, ‘রোজাদারকে ইফতার করানো দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাকে পেট ভরে তৃপ্ত করানো।’ (আল ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা : ১৯)

আরও পড়ুন… রোজার সুফল সর্বদা আল্লাহর স্মরণ করা

one pherma

সালফে সালেহিন খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিলেন এবং তারা এটাকে মহান ইবাদত মনে করতেন। জনৈক সলফে সালেহিন বলেছেন- ‘দশজন সাথীকে দাওয়াত দিয়ে তাদের পছন্দসই খাবার খাওয়ানো আমার কাছে দশজন গোলাম আজাদ করার চেয়ে প্রিয়।’

সালফে সালেহিনের অনেকে নিজের ইফতার অন্যকে খাওয়াতেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- ইবনে উমর, দাউদ আল-তাঈ, মালিক বিন দিনার, আহমাদ ইবনে হাম্বল। ইবনে উমর এতিম ও মিসকীনদের সঙ্গে না নিয়ে ইফতার করতেন না।

সালফে সালেহিনদের কেউ কেউ তার নিজের ইফতার তার সঙ্গী সাথীদেরকে খাওয়াতেন এবং নিজে তাদের খেদমত করতেন। এদের মধ্যে অন্যতম- ইবনুল মুবারক।

আবু সাওয়ার আল-আদাওয়ি বলেন, বনি আদি গোত্রের লোকেরা এই মসজিদে নামাজ পড়ত। তাদের কেউ কখনো একাকী ইফতার করেনি। যদি তার সঙ্গে ইফতার করার জন্য কাউকে সঙ্গে পেত তাহলে তাকে নিয়ে ইফতার করত। আর যদি কাউকে না পেত তাহলে নিজের খাবার মসজিদে নিয়ে এসে মানুষের সঙ্গে খেত এবং মানুষকেও খেতে দিত।

খাবার খাওয়ানোর ইবাদতের মাধ্যমে আরো অনেকগুলো ইবাদত পালিত হয়। নিমন্ত্রিত ভাইদের সঙ্গে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা। যে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা জান্নাতে প্রবেশের কারণ। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ঈমান আনা ছাড়া জান্নাত যেতে পারবে না। আর পারস্পারিক ভালোবাসা ছাড়া তোমাদের ঈমান হবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৪)

আরও পড়ুন… ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

দাওয়াত খাওয়ানোর মাধ্যমে নেক লোকদের সাহচর্য অর্জিত হয়। আপনার খাবার খেয়ে তারা নেককাজের শক্তি পায়, এতে আপনার সওয়াব হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের অনেক বেশি নেক কাজ করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

ইবাংলা/এইচআর/১৬ এপ্রিল ২০২৩

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us