ঝালকাঠিতে বাস দূর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, মরদেহ হস্তান্তর

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকায় বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ যাত্রীর মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে স্বজনরা শনাক্তের পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার রাতে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Islami Bank

তিনি বলেন, ১৭ জনের মৃতদেহের স্বজনরা শনাক্ত করেছে। তা হস্তান্তর করা হয়েছে। যারা পোস্ট মর্টেম ছাড়া নিতে আবেদন করেছেন তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রেখে মরদেহ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন ও সৎকারের জন্য প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন>> ঝালকাঠিতে বাস উল্টে পুকুরে, নিহত ১৫

এর আগে শনিবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ছত্রকান্দা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে পুকুরে পড়ে গিয়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় অন্তত ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন-ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকার পান্না মিয়ার ছেলে তারেক রহমান (৪৫), একই এলাকার মুজাফফর আলীর ছেলে সালাম মোল্লা (৬০), রাজাপুর উপজেলার নিজামিয়া গ্রামের মৃত মাওলানা নজরুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪৩), তার কন্যা খুশবো আক্তার (১৭), ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার মৃত সালাম মোল্লার ছেলে শাহীন মোল্লা (২৫), ভাণ্ডারিয়ার পশারিবুনিয়া এলাকার জালাল হাওলাদারের কন্যা সুমাইয়া (৬), বাকেরগঞ্জের চর বোয়ালিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ (৮), ভাণ্ডারিয়া রিজার্ভ পুকুর পাড় এলাকার মৃত লাল মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম (৬০), মৃত লাল মিয়া হাওলাদারের ছেলে আবুল কালাম হাওলাদার, মেহেন্দিগঞ্জের মোর রিপনের কন্যা নিপা মনি (১), তার মা আইরিন আক্তার (২২), রাজাপুরের বলাইবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে নয়ন (১৬), ভাণ্ডারিয়ার উত্তর শিয়ালকাঠি এলাকার মৃত ফজলুল হক মৃধার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৮০), কাঠালিয়ার বাঁশবুনিয়া এলাকার তৈয়বুর রহমানের কন্যা সালমা আক্তার মিতা (৪২), তেলিখালি এলাকার রাসেল সিকদারের স্ত্রী সাবিহা আক্তার (২৪), কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ কৈখালি গ্রামের ফারুক তালুকদার (৫০), বরিশালের হাটখোলা এলাকার কবির মোল্লার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৩)।

one pherma

এছাড়া ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের নাম পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- কাঁঠালিয়ার আবুল বাশার, রিজিয়া, আরজু, ভাণ্ডারিয়ার রাসেল মোল্লা, মনিরুজ্জামান, ফাতিমা, রাসেল, নলছিটির মিফতা, আজিজুল, রাজাপুরের মনোয়ারা, আলাউদ্দিন, সোহেল, আবুল কালাম, ভোলার সুইটি, বাউফলের সিদ্দিকুর, রুকাইয়া, বরগুনার আকাশ, সাতক্ষীরার সোহাগ, মঠবাড়িয়ার নাঈমুল, ঝালকাঠির আল-আমিন ও বরিশালের সাব্বির। এছাড়া দুইজনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাদের নাম জানা যায়নি।

পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল আরও জানান, এই ঘটনায় এখনও কোন মামলা করা হয়নি। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন। চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী জানান, এই মুহূর্তে নিহতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যে সব জেলার ব্যক্তিরা এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন সেসব জেলার প্রশাসকরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ইবাংলা/এসআরএস

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us