শিশু হাসপাতাল, বিআরটিএ গাজীপুর ও মাদারীপুর সমাজসেবায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | দুর্নীতি বিরোধী সংবাদ | ১৫ জুলাই ২০২৫, ঢাকা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে চিকিৎসক নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান এবং এতিম শিক্ষার্থীদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড যাচাই করে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)র প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট পৃথক তিনটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন…শামীম ওসমান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনে ২মামলা দুদকে
প্রতিবেদন ১: শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নিয়োগে অনিয়মের দুর্নীতি: দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তে নামে। বোর্ড সভার নথি ও নিয়োগ বিধি যাচাই করায় জানা যায়, বোর্ডের ২২তম সভায় ১ জুন ২০২৫ তারিখে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬ মাসের জন্য এডহক ভিত্তিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৪ সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি ৬৫ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করে নিয়োগপত্র প্রদান করে। কিন্তু অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছিলেন অবৈতনিক, এমডি শিক্ষার্থী এবং প্রশিক্ষণার্থী।
তদন্ত টিম জানতে পারে, এখনো প্রতিষ্ঠানটির জন্য স্পষ্ট কোনো নিয়োগ প্রবিধান প্রণয়ন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
প্রতিবেদন ২: বিআরটিএ গাজীপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ঘুষ ও জালিয়াতি: দুদকের অভিযানে ফাঁস
দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিআরটিএ গাজীপুর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে বিস্তৃত দুর্নীতির চিত্র উদঘাটন করেছে। অভিযানে টিম ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতা সেজে অংশ নিয়ে দেখেছে—

ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও কিছু প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় ফেল করেও পাশ দেখানো হয়েছে। একাধিক পরীক্ষার খাতায় একই ব্যক্তির হাতের লেখা পাওয়া গেছে। খাতা ছাড়া বা খাতায় নাম, রোল নম্বর না থাকা সত্ত্বেও পাশ দেখানো হয়েছে।
অভিযানকালে পাওয়া তথ্য কমিশনের কাছে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন…রাঙামাটিতে অপহৃত মামুনের দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার; ঘাতক সাবেক কর্মচারী কামরুল স্ত্রীসহ গ্রেফতার
প্রতিবেদন ৩: মাদারীপুরে এতিম শিক্ষার্থীদের নামে কোটি টাকার আত্মসাৎ: দুদকের অভিযান
দুদকের মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম হযরত শাহ মাদার (র:) দরগাহ শরীফ এতিমখানায় অভিযান পরিচালনা করে জানা গেছে, গত ছয় বছর ধরে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ আত্মসাত করা হয়েছে।
২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১৪৫ জন এতিম শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ হওয়া প্রায় ২ কোটি ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, এতিমখানায় কখনোই এত শিক্ষার্থী ছিল না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এফডিআর, অনুদান ও শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে টিম।
বিশদ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিলের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইবাংলা/ বাএইচসি


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.