নেপালে জেন-জি বিপ্লবের নিয়ন্ত্রণ হারাল মূল আন্দোলনকারীরা
ইবাংলা.প্রেস │ব্যুরো অফিস, কাঠমান্ডু, নেপাল │আন্তর্জাতিক ডেস্ক │ বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নেপালে টানা বিক্ষোভে রাজনীতির ভীত কেঁপে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। চরম অস্থিরতার মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তবে ‘জেন-জি বিপ্লব’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনের দিক পরিবর্তন নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছে তারাই, যারা প্রথম থেকে সড়কে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
আরও পড়ুন…ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে থাকা তরুণরা অভিযোগ করেছে—তাদের হাতে গড়া আন্দোলন ছিনতাই করে নিয়েছে সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা। তারা বলছে, শুরুতে আন্দোলন ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতির অবসানের দাবি নিয়ে; কিন্তু পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়, যা জেন-জিদের লক্ষ্য ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ৮ সেপ্টেম্বর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি বাধা দিলে সংঘাত শুরু হয়। এতে দুই দিনে প্রাণ হারায় অন্তত ২০ জন। কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেনা ও পুলিশকে।
এক বিবৃতিতে জেন-জি গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আন্দোলনকে নষ্ট করার দায় তারা বহিরাগত গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা কখনোই বিশৃঙ্খলা বা জনজীবন ব্যাহত করতে চাইনি।”
এদিকে নেপালের সেনাবাহিনীও একই অভিযোগ তুলেছে—নানা ব্যক্তি ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী বিক্ষোভে প্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
ফলে একদিকে জেন-জিদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের কঠোর দমন—দুই মিলিয়ে নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঝুলছে।
ইবাংলা বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.