“প্রবাসীদের নতুন দিগন্ত: কম খরচে ব্রাজিলে স্থায়ী রেসিডেন্সি”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক │ ইবাংলা.প্রেস │ বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সম্পাদনা: ইস্রাফিল হাওলাদার:

Islami Bank

লাতিন আমেরিকার প্রাণকেন্দ্র ব্রাজিল এবার অভিবাসীদের জন্য খুলে দিয়েছে স্থায়ী বসবাসের নতুন দরজা। দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ব্রাজিলে মাত্র ২৭ হাজার টাকারও কম খরচে মিলছে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি)’র সুযোগ। এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রাজিলে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারবেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের আবেদনকারীরাও এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

এছাড়াও জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। ব্রাজিলের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি। ব্রাজিলের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে স্থান করে নিয়েছে।

আরও পড়ুন…নেপালে জেন-জি বিপ্লবের নিয়ন্ত্রণ হারাল মূল আন্দোলনকারীরা

কারা যোগ্য?
রিয়েল এস্টেটে ৭ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা) বিনিয়োগকারী। ব্রাজিলিয়ান ব্যবসায় ৫ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৮১ লাখ টাকা) বিনিয়োগকারী। দক্ষ কর্মী যেমন বিজ্ঞানী, গবেষক, অধ্যাপক ইত্যাদি পেশাজীবী। ব্রাজিলিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছেন বা সেখানে সন্তান রয়েছে এমন বিদেশি। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাদের নিয়মিত পেনশন আয় রয়েছে। বিদেশি কর্মী যাদের মাসিক আয় প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৭৬,১৮৩ টাকা) এবং এ প্রমাণ দেখাতে সক্ষম। ২০২৪ সাল থেকে স্বীকৃত ব্রাজিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে স্থানীয় চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

সাধারণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বৈধ পাসপোর্ট। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন প্রমাণ)। ব্রাজিলে আইনানুগ প্রবেশ ও থাকার প্রমাণ। বিনিয়োগ, চাকরি বা পারিবারিক সম্পর্কের বৈধ প্রমাণপত্র। অর্থনৈতিক সামর্থ্য বা আয়ের প্রমাণ। ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ফান্ডের প্রমাণ।

one pherma

কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে যে ভিসা পথ (বিনিয়োগ, চাকরি, পরিবার, অবসর ইত্যাদি) বেছে নেবেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিনিয়োগ বা কাগজপত্র সংগ্রহ করুন। অস্থায়ী ভিসার আবেদনপত্র পূরণ করুন।

নিজ দেশে অবস্থিত ব্রাজিল কনস্যুলেট অথবা ব্রাজিলে অবস্থান করলে ফেডারেল পুলিশের কাছে আবেদন জমা দিন। আবেদন ফি জমা দিতে হবে, যা ১০০–৩০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৮১৩ থেকে ২৬,৪৪০ টাকা)। এ ফি-র মধ্যে রেসিডেন্স অথরাইজেশন, জাতীয় অভিবাসন নিবন্ধন কার্ডসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত।

সব কাগজপত্র ও ফর্ম অনলাইনে বা সাক্ষাৎকারের সময় জমা দিতে হবে। অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সাধারণত ৪–৬ মাস, যদিও সময় ভিন্ন হতে পারে। অনুমোদন পাওয়ার পর ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে নিবন্ধন করে রেসিডেন্ট আইডি সংগ্রহ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। স্থায়ী রেসিডেন্সি ধরে রাখতে হলে টানা দুই বছরের বেশি সময় ব্রাজিলের বাইরে থাকা যাবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এবং জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে সক্ষম, তাদের জন্য ব্রাজিল নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের অর্থনীতি দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ, বাজার বিনিময়ের ভিত্তিতে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম, ও ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি। ব্রাজিলের অর্থনীতি একটি মিশ্র অর্থনীতি। দেশটির যথেষ্ট পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, যা এর অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, সামনের কয়েক দশকে ব্রাজিলের অর্থনীতি বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্তম অর্থনীতির একটি হিসেবে পরিণত হবে

ইবাংলা.প্রেস/ বা এ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us