ইরানে বিপদেপড়া ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্রই

ইবাংলা.প্রেস | ইবাংলা ডেস্ক | ০৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ঘিরে নাটকীয় উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যন্ত সফল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিন ধরে লুকিয়ে থাকার পর তীব্র গোলাগুলির মধ্যে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ইরানের বাইরে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। তবে নিখোঁজ এই ক্রুকে উদ্ধারে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে।

Islami Bank

মূলত ইরানের ভেতরে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে চালানো অভিযানের মাঝপথেই তা নাটকীয় মোড় নেয়। দুর্গম এলাকায় অচল হয়ে পড়া দুটি সামরিক বিমান ইরানের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই তা ধ্বংস করে দেয়। এরপর নতুন পরিকল্পনায় তীব্র গোলাগুলির মধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয় এই নাটকীয় এই উদ্ধার অভিযান।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার অভিযানে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ইরানের দুর্গম এলাকায় অচল হয়ে পড়ার পর সেগুলো নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তাকে (ওয়েপনস অফিসার) উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনায় এসব বিমান ব্যবহার করার কথা ছিল। তবে অভিযানের মাঝপথে বিমান দুটি অচল হয়ে পড়লে পরিকল্পনায় জটিলতা দেখা দেয়।

মূলত যে বিমানগুলো দিয়ে ওই কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী দলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল, সেগুলো হঠাৎ অচল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিমানগুলো ফেলে রাখলে সেগুলো ইরানি বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এতে সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকায় মার্কিন বাহিনী নিজেই ওই দুই বিমান ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর মার্কিন কমান্ডাররা নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন…২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ৭৮৭, আরও ৪ মৃত্যু

one pherma

সেই অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত তিনটি নতুন বিমান পাঠানো হয় এবং সেগুলোর মাধ্যমেই রুদ্ধশ্বাস এই অভিযান সম্পন্ন করা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওই দুটি বিমান ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ায় সেগুলো ইরানি বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা ছিল। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন বাহিনী নিজেদেরই ওই দুই বিমান ধ্বংস করে দেয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন কমান্ডাররা দ্রুত নতুন ব্যবস্থা নেন। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত তিনটি বিমান পাঠানো হয়। এই নতুন বাহন ব্যবহার করেই অভিযানের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা হয়।

মূলত উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাটকীয়। নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীকে তীব্র গোলাগুলির মুখে পড়তে হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে জানা যায়, ওই ক্রু সদস্য বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দুই দিন ধরে ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে ছিলেন। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান সফল হয় এবং ওই ক্রু সদস্যকে ইরানের বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল উদ্ধার মিশনের একটি।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us