আমাকে একজন মেধাবী স্বৈরশাসক বলুন: ট্রাম্প

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৪ মে ২০২৬

সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে ‘বোকা’ বলে অপমান করাটা তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তবে তাকে যদি কেউ একজন ‘মেধাবী একনায়ক শাসক’ বা স্বৈরশাসক বলে সম্বোধন করে, তাতে তার কোনো আপত্তি নেই।

Islami Bank

শুক্রবার (২২ মে) নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা তার মানসিক দক্ষতা নিয়ে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে চিকিৎসকের কাছে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিউইয়র্কের এই সমাবেশটি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প একপর্যায়ে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং চিকিৎসকের সঙ্গে তার কথোপকথনের দিকে চলে যান।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ যাবৎকালের দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিশ্চয়ই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবে।

সমালোচকদের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি বলেছিলেন তাকে বোকা বলাটা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না, বরং বোকা না বলে তাকে একজন মেধাবী স্বৈরশাসক বলা হলেও তার আপত্তি নেই।

পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেন, যা সাধারণত বেশ কঠিন এবং খুব কম সংখ্যক মানুষই এতে সফল হন বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন…আগামী ১ মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

one pherma

ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার এই কগনিটিভ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব প্রকাশ করেছেন। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করার আগে প্রত্যেকের এই পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।

নিজের তিন মেয়াদের শাসনকালে তিনি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ সফল হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট নেতাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খোঁচা দেন।

তবে ট্রাম্পের এই পরীক্ষা দেওয়ার দাবি নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনবার এমন পরীক্ষা দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়।

 মূলত ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ‘মনট্রিল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষার কথাই ট্রাম্প বারবার বলছেন বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনারের মতে, ট্রাম্পের মানসিক দক্ষতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং তার আচরণে মানসিক অসুস্থতার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে।

অবশ্য বিশেষজ্ঞদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্যের প্রশংসা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম তীক্ষ্ণ ও দূরদর্শী কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us