ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১০

ইবাংলা.প্রেস | রুবেল ভূইয়া | ৫ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত শিশু গ্রুপ ও হোসেন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

Islami Bank

আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের বিরোধেরজেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন মাত্রা পায়।

পরে টিয়ারা বাজার এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হোসেন গ্রুপের পক্ষ থেকে আহমেদ হোসেন অভিযোগ করেন, আধিপত্য বিস্তারের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাজারে আমাদের লোকজনের ওপর শিশু গ্রুপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু গ্রুপের প্রধান আতিকুর রহমান শিশু বলেন, হোসেন গ্রুপের লোকজন আমাদের এক কর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমরা কেবল আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছি। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও নাকচ করে বলেন, আমি কখনো কোনো এমপির প্রভাব ব্যবহার করিনি।

one pherma

আরও পড়ুন…দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক থাকলেও তা ব্যক্তিগত পর্যায়ের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য ব্যবসা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মূর্খ লোকদের ওপর এলাকার নেতৃত্ব চলে যাওয়ায় ক’দিন পরপরই তারা এমন সংঘাতে জড়াচ্ছে।

হোসেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক হলেও শিক্ষাদীক্ষা তেমন নেই। আর শিশু তো অক্ষরজ্ঞানশূন্য। বিগত কয়েক বছর বিদেশে ব্যবসা করে যা অর্থ কামিয়েছে তার গরমে সে এখন নেতৃত্বে আসতে চায়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপির পক্ষে টাকা খরচ করে নিজেকে নেতা বানানোর চেষ্টা করছে।

ফলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রায়ই সে একজনের সঙ্গে আরেকজনের দ্বন্দ্ব বাঁধিয়েদিচ্ছে।এসব লোকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us