জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের শুধু সুফলভোগী হিসেবে নয়, বরং কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি ও নেতৃত্বদাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন COP31 প্রেসিডেন্সির ইয়ুথ ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন স্যালি হিগিন্স।বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সপ্তাহের চতুর্থ সপ্তাহের উচ্চ-পর্যায়ের জলবায়ু আলোচনায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্যালি হিগিন্স বলেন, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। মানব ইতিহাসে তরুণদের এটিই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। জলবায়ু কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর জন্য এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মেধা, প্রাণশক্তি, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো জলবায়ু কৌশলই তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া সফল হতে পারে না। তরুণদের প্রায়ই জলবায়ু কার্যক্রমের সুফলভোগী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এর চেয়ে বড় সুযোগ হলো তাদের এই কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
আরও পড়ুন…হঠাৎ বন্ধ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট
তরুণদের জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্যালি হিগিন্স বলেন, অনেক তরুণের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন কোনো ভবিষ্যতের ঝুঁকি নয়; এটি ইতোমধ্যেই তাদের সমাজ, কর্মক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
তিনি আরও বলেন, স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তরুণদের আলাদা করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই। কারণ তারা ইতোমধ্যেই প্রতিদিনের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্যালি হিগিন্স বলেন, তরুণরা ইতোমধ্যে ব্যবসা গড়ে তুলছে, শিল্পখাতকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং জলবায়ু সমাধানের জন্য সমাজকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করছে।
তার মতে, জলবায়ু কার্যক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মূলত মানুষেরই চ্যালেঞ্জ। নীতিমালা দিকনির্দেশনা দিতে পারে, বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রযুক্তি সম্ভাবনার পরিধি বাড়াতে পারে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।তরুণদের কীভাবে সক্রিয় করা যায়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন একটি যৌথ বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে সবাই মিলে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
স্যালি হিগিন্স বলেন, ইউএনইপির প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, কত দ্রুত তা কমানো সম্ভব হবে এবং সমাজ কতটা কার্যকরভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে—তা এখনও মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ তখনই এগিয়ে আসে, যখন তারা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পায় যার দিকে এগিয়ে যাওয়া সার্থক। মানুষ তখনই বিনিয়োগ করে, যখন তারা বিশ্বাস করে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা দেখতে পেলেই তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ভবিষ্যৎ বর্তমানের চেয়ে ভিন্ন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ভবিষ্যৎ যেন আরও স্থিতিস্থাপক, সমৃদ্ধ এবং সম্ভাবনাময় হয়—তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার।
বক্তব্যের শেষে মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তরুণ প্রজন্মকে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের পথে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করা যায়, সে বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানান স্যালি হিগিন্স।
তিনি বলেন, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ যখন ভবিষ্যৎ গঠনে নিজেদের ভূমিকা দেখতে পাবে, তখন বাস্তবায়নের আলোচনা শুধু সমস্যা সমাধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা এমন একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হবে, যার নেতৃত্ব সবাই মিলে দিতে পারবে।