বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্তত ৮০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সামুদ্রিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাটি বর্তমানে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বার্তায় তিনি বলেন, প্রায় আট দশক ধরে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নীতিমালা প্রণয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক নৌ-চলাচল আরও দক্ষ, ন্যায্য, টেকসই ও নিরাপদ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো গড়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
আরও পড়ুন…যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
এর প্রভাব সরাসরি নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর পড়ছে এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।তিনি বলেন, সামুদ্রিক নৌ-চলাচলে সৃষ্ট এসব বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এ বছর ও ২০২৭ সালের বিশ্ব সামুদ্রিক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নীতি থেকে বাস্তবে: সামুদ্রিক উৎকর্ষের পথে’ (From Policy to Practice: Powering Maritime Excellence)।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই প্রতিপাদ্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অপরিহার্য গুরুত্ব তুলে ধরে।
সামুদ্রিক খাত নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে নাবিক, বন্দরকর্মী, জাহাজ পরিচালনাকারী ও পরিদর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বার্তায় তিনি আরও বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে জ্বালানি ব্যবস্থার রূপান্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামুদ্রিক আইন ও নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব আইন একদিকে জাহাজের কর্মীদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে মহাসাগরগুলোর সুরক্ষায়ও সহায়তা করে।
সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামুদ্রিক খাতে আরও অগ্রগতি সম্ভব বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
তিনি সবাইকে সামুদ্রিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে এবং সবার জন্য আরও নিরাপদ ও স্থিতিস্থাপক সমুদ্র গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।