বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎকে আরও উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, পর্যটন বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে। তবে একই সঙ্গে পর্যটনের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পর্যটনকে নতুন রূপ দিতে ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তায় বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে পর্যটকদের গন্তব্য নির্বাচন, পর্যটন শিল্পের কার্যক্রম এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার ধরন পরিবর্তন করছে।
আরও পড়ুন…ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে শক্তিশালী করা, সেবার মান উন্নত করা এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য না থাকলে এই প্রযুক্তি পর্যটকদের গুটিকয়েক নির্দিষ্ট গন্তব্য ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে কেন্দ্রীভূত করতে পারে। এতে অনেক সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, প্রযুক্তিকে অবশ্যই মানবতার সেবায় নিয়োজিত করতে হবে। পর্যটন খাতের কর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং নতুন পর্যটন গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে।
এ জন্য ডিজিটাল দক্ষতায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং এমন উদ্ভাবন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যা পর্যটন খাতকে সচল রাখা মানুষ ও স্থানগুলোর জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে।
বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব সবাইকে পর্যটনের জন্য এমন একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যা হবে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।