আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানুষের গড় আয়ু এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
আরও পড়ুন…সব ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১২০ কোটি থেকে বেড়ে ২১০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, দীর্ঘায়ু মানবসমাজের অন্যতম বড় অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ফলে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে এই পরিবর্তন অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার সামনে নতুন ঝুঁকি ও সুযোগ তৈরি করছে।
এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থাসমূহের পুনর্বিবেচনা’। এর মাধ্যমে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণে বিদ্যমান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, অনেক মানুষের কাছে বয়স বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতা ও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে, যা মানুষের অধিকার ও সুস্থ জীবনযাপনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কর্মসংস্থান, পেনশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আজীবন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করা হলে মানুষ বয়স নির্বিশেষে সমাজে অর্থপূর্ণভাবে সক্রিয় থাকতে পারে।
তিনি বলেন, প্রবীণরা শুধু পরিবারের সদস্য নন; তাঁরা নেতা, পরিচর্যাকারী এবং সমাজ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে প্রজন্মগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন নীতিমালা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দীর্ঘ জীবনকে আরও সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।
এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন, যেখানে প্রত্যেক মানুষ বয়স নির্বিশেষে নিজের পছন্দ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।