সমন্বয়ক পরিচয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাঙ্গাইলে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখলের অভিযোগ ওঠেছে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি নামক এক নারী সমন্বয়কের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে শনিবার (৮ মার্চ) সকালে দখলকৃত বাড়িটি তালা ভেঙ্গে ২০ জন পাগল নিয়ে প্রবেশ করা হয়েছে এবং সেখানে একটি ‘পাগলের আশ্রম’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন…পল্লী বিদ্যুতে ব্ল্যাকআউট ঘোষণাকারী চাকরিচ্যুতরা ফের ষড়যন্ত্রে
মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি নামক ওই নারী সমন্বয়ক দাবি করেছেন, এই কাজের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত পাগলদের জন্য আশ্রম তৈরি করা হচ্ছে। তবে, এই ঘটনায় চাঁদা চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার মধ্যে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা অসন্তুষ্ট হলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। এমনকি জোয়াহেরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে বাড়িটি জবরদখল করা হয়েছে। তবে, মিষ্টি দাবি করেছেন যে তিনি চাঁদা চাননি এবং আশ্রম তৈরির কাজ চলছে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি, যেখানে রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার, সমাজের অসহায় মানুষদের শোষণ, এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনা উঠে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এদিকে, বিলুপ্ত প্রায় সমন্বয়ক মিষ্টি জানান, ফেসবুকে পূর্বঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের সব নেতাদের বাড়িতে পাগলদের জন্য ‘আশ্রম’ গড়ে তোলা হবে। তারই অংশ হিসাবে তালা ভেঙে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের ছয়তলা ভবনে প্রবেশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটাকে জবরদখল বলা যাবে না, কারণ কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যবহারের জন্য ভবনটি নেওয়া হয়নি। সমাজের অবহেলিত পাগলদের জন্য আশ্রম করা হচ্ছে। এতে অন্য সমন্বয়করা তাকে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জোয়াহেরুল ইসলামের পক্ষ থেকে একজন লোক এসে জানান, ‘বাসা না ভেঙে সেখানে যেন আশ্রম করা হয়।’ তার প্রস্তাব অনুযায়ী পাগলদের আশ্রমই তৈরি করা হয়েছে। তবে একথা কে বলেছেন, তার নাম-পরিচয় বলতে পারেননি সমন্বয়ক মিষ্টি। এদিকে আবাসিক এলাকায় ‘পাগলের আশ্রম’ তৈরি করায় স্থানীয়রা অস্বস্তি প্রকাশ করলেও তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে সমন্বয়ক মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি বলেন, আবাসিক এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় যদি পাগলদের কোনো প্রভাব পড়ে তাহলে যারা বেশি পাগল তাদের অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় স্থানান্তর করে কম পাগলদের এখানে রাখা হবে।
জোয়াহেরুল ইসলামের মেয়ে জাকিয়া ইসলাম দাবি করেছেন, তাদের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় তারা বাড়ি জবরদখল করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টাঙ্গাইলের সমন্বয়ক আল আমিন বলেন, মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি নামের একজন নারী ছাত্র প্রতিনিধি তথা সমন্বয়ক পরিচয়ে জনৈক আ.লীগ নেতার বাসায় পাগলের আশ্রম করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তারা এটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। কেউ এরকম কাজ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি বলেন, চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি চাঁদা চাইনি। এ বাড়িতে পাগলের আশ্রম বানানো হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানবীর আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। যেহেতু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে ফেলেছেন সেখানে ছাত্র প্রতিনিধি বা সমন্বয়ক বলতে আর কিছু থাকে বলে তার মনে হয় না।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের বাসায় ঢুকে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জোয়াহেরুল ইসলাম সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। এর আগেও মিষ্টির নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের বাসা ভাঙচুর করা হয়।
ইবাংলা/ বা এ