সবজির বাজারে আগুন, কাঁচা মরিচের কেজি ছুঁয়েছে ৬০০ টাকা

ইবাংলা.প্রেস | ঢাকা | ১১ জুলাই ২০২৫ | শুক্রবার

টানা বৃষ্টির প্রভাব ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচাবাজারে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। সবজি, মাছ ও মাংসের পাশাপাশি ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে সবচেয়ে চমক কাঁচা মরিচের দামে—কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা ছুঁয়েছে কোনো কোনো বাজারে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়া, কাপ্তানবাজার, কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কাঁচা পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তবে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি আরও চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন…প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে জাতিসংঘ ও বিমস্টেক

সবজির বাজারে অস্থিরতা। আষাঢ় মাসে স্বাভাবিকভাবেই সবজির সরবরাহ কম থাকে। তার ওপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এবং টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঠ পর্যায়ের ফসল। বিক্রেতারা বলছেন, এসব কারণেই বাড়ছে দাম। এক নজরে কিছু সবজির বর্তমান দাম: কাঁচা মরিচ: ৩০০-৩২০ টাকা (কিছু বাজারে ৬০০ টাকা পর্যন্ত), পটোল: ৭০-৮০ টাকা (পূর্বে ৬০-৭০ টাকা)

ঢেঁড়শ: ৬০-৭০ টাকা (পূর্বে ৪০-৫০ টাকা), শসা: ৭০-৮০ টাকা (পূর্বে ৫০-৬০ টাকা), করলা: ৮০-৯০ টাকা (পূর্বে ৬০-৭০ টাকা), বেগুন, কচুর লতি, বরবটি: ৬০-৮০ টাকা, টমেটো: ১৬০-২০০ টাকা, লাউ, ঝিঙা: ৬০-৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপে: ৪০-৫০ টাকা

মুরগি-মাংসেও দাম বেড়েছে। মাংসের বাজারেও রয়েছে উর্ধ্বগতি। ব্রয়লার মুরগি: ১৬০-১৭০ টাকা/কেজি, সোনালি মুরগি: ৩০০-৩২০ টাকা, গরুর মাংস: ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস: ১১০০-১২০০ টাকা, ডিম: ১২৮-১৩০ টাকা/ডজন

মাছের বাজারেও উত্তাপ, জলজ উৎস থেকে আসা প্রিয় মাছগুলোও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইলিশ (১ কেজি): ২৪০০-২৬০০ টাকা, চিংড়ি: ৮০০-১২০০ টাকা, ট্যাংরা: ৭০০ টাকা, রুই-কাতলা: ৩০০-৪৫০ টাকা, পাবদা: ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া-পাঙাশ: ২২০-২৫০ টাকা

স্থিতিশীল কিছু পণ্য, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডালসহ কিছু নিত্যপণ্যের দামে তেমন হেরফের হয়নি। দেশি পেঁয়াজ: ৫৫-৬০ টাকা, দেশি আদা: ১৩০-১৫০ টাকা, দেশি রসুন: ১২০-১৫০ টাকা, আমদানি করা রসুন: ১৯০-২০০ টাকা, মসুর ডাল (দেশি): ১৪০ টাকা, মসুর ডাল (আমদানি): ১১৫-১২০ টাকা

বিক্রেতাদের ভাষ্য- কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাঈদ হোসেন বলেন, “বৃষ্টিতে মাঠে সবজি উঠছে না, অনেক জায়গায় পানি। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।” দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ইবাংলা/ বা এ