সিরিয়া ও লেবাননে সমন্বিত হামলা ইসরায়েলের

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের মাঝেই এবার সিরিয়া ও লেবাননে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিয়ার সুয়াইদা অঞ্চলে এবং লেবাননের বেকা ভ্যালিতে চালানো এসব হামলাকে ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

সিরিয়ায় ‘দ্রুজদের রক্ষার’ অজুহাতে হামলা: সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার সুয়াইদা শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ‘রাজনৈতিক ও কৌশলগত দখলদারিত্বের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন…ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় আরও ৭৮ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫৮ হাজার

এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “সুয়াইদায় সরকারি বাহিনী এবং অস্ত্রগুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

লেবাননে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ইউনিট ছিল লক্ষ্যবস্তু: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানায়, লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা ভ্যালিতে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ইউনিটের অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ মুখপাত্র আভিচায় আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।”

বিশ্লেষকদের সতর্কতা: গোলান হাইটসের বাইরে ইসরায়েলি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ‘ড্রুজ সুরক্ষার’ দাবি করলেও আসল উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এবং গোলান হাইটসের বাইরে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা।

গাজায় থামেনি আগ্রাসন, মৃতের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়াল: এর আগে, গাজা উপত্যকায় একদিনে অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৩৮৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭ জন।

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ: সিরিয়া ও লেবাননে নতুন করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, এ ধরনের আঞ্চলিক আগ্রাসন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইবাংলা/ বাএএইচএস

ইসরায়েলের