আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ইবাংলা.প্রেস | ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | ২২ জুলাই ২০২৫

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে এবং এনজিআর প্রকল্পে জিআর চাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ময়মনসিংহ-৯ (আসন ১৫৪) থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনসহ ১৪ জন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রুজু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ।

আরও পড়ুন…উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা: উদ্ধার কাজে বাধা, তদন্তে সেনাবাহিনী

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনোয়ারুল আবেদীন খান তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে লাভবান হন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ এবং কাজ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়েছেন।

এছাড়াও, তিনি বিপুল পরিমাণে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। এসব সম্পদের উৎস ও বৈধতা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।

দুদক সজেকা ময়মনসিংহ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। যেই অপরাধ করুক না কেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলার ভিত্তিতে এখন সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংক লেনদেন, প্রকল্প অনুমোদন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহের রেকর্ড সংগ্রহ করে পরবর্তী পর্যায়ের তদন্ত করা হবে।

আসামির বিবরণ ও ঠিকানা: আনোয়ারুল আবেদীন খান (তুহিন)– সাবেক এমপি, ময়মনসিংহ-৯ (১৫৪), আঃ মালেক চৌধুরী– সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, নান্দাইল এবিএম সিরাজুল হক– সাবেক ইউপি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, নান্দাইল।মোঃ আবুল খায়ের– সাবেক চেয়ারম্যান, ১১ নং খারুয়া ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু– সাবেক চেয়ারম্যান, ০৯ নং আচারগাঁও ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ মোস্তফা কামাল– সাবেক চেয়ারম্যান, ১২ নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন, নান্দাইল।

আরও পড়ুন…ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোঃ তৌকির ইসলামের ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত

এমদাদুল হক ভূঁইয়া– সাবেক চেয়ারম্যান, ০৪ নং চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ সাইফুল ইসলাম – সাবেক চেয়ারম্যান, ০৮ নং সিংরইল ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ আবুল খায়ের বাবুল– সাবেক চেয়ারম্যান, ০২ নং ময়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন, নান্দাইল।মোঃ ময়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া (মিল্টন)– সাবেক চেয়ারম্যান, ১০ নং শেরপুর ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ ইফতিকার উদ্দিন ভূঁইয়া– সাবেক চেয়ারম্যান, ০৭ নং মুসুল্লী ইউনিয়ন, নান্দাইল। সৈয়দ আশরাফুজ্জামান খোকন – সাবেক চেয়ারম্যান, ০৫ নং গাংগাইল ইউনিয়ন, নান্দাইল।মোঃ মোশারফ হোসেন কাজল, – সাবেক চেয়ারম্যান, ০৩ নং নান্দাইল ইউনিয়ন, নান্দাইল। মোঃ আবুল হোসেন সরকার,– সাবেক চেয়ারম্যান, ০১ নং বেতাগৈর ইউনিয়ন, নান্দাইল।

অভিযোগিত ধারাসমূহ ও অপরাধ দণ্ডবিধি ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯. ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২)– ২০১৩-১৪ অ.বছরে ১৩২টি ও ২০১৪-১৫ অ.বছরে ২২৮টি ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্প দেখানো হয়। মোট ২,৮৭,৮৬,৫২৩ টাকা (৩৬৪ মেট্রিক টন + ৪৭১ মেট্রিক টন জিআর চাল) আত্মসাতের চেষ্টা। ভুয়া প্রকল্পে জিআর চালের হিসাব ও রেকর্ডে জালিয়াতি। সরকারি ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের জোরে যোগসাজসে সম্পদ উপার্জন ও যাচাই-বর্জিত লেনদেন।

দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ বুলু মিয়া (পিএসসি ১১৭৪০৮০৩৩০) বলেছেন: “তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হলো। তদন্ত শীঘ্রই সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইবাংলা/বাএ