দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে পৃথক তিনটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে।
অভিযান ০১ (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহ নগরীর পাট গুদামের সরকারি জমি জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বাংলাদেশ পাট কর্পোরেশন এবং সিনিয়র সহকারী জজ আদালত থেকে নথিপত্র সংগ্রহ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের প্রায় ৮৪% জমির দলিল তৈরি করার প্রমাণ মেলে। দুদকের অভিযানের পর আদালত বিতর্কিত জমি বিক্রির দলিল রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
আরও পড়ুন…কআগামীকাল টাঙ্গাইলে দুদকের ১৮২তম গণশুনানি
অভিযান ০২ (চট্টগ্রাম-আনোয়ারা):
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি, অতিরিক্ত ফি আদায় ও অনিয়মের অভিযোগে দুদক একটি ফলোআপ অভিযান চালায়।
টিম ছদ্মবেশে আউটডোর-ইনডোর সেবা, ডাক্তার ও স্টাফদের উপস্থিতি এবং রোগীদের অভিযোগ যাচাই করে। সেবায় ধীরগতি, হাজিরা তালিকায় অসঙ্গতি ও ওয়ার্ডের অপরিচ্ছন্নতা ধরা পড়ে। দুদকের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা সেবার মানোন্নয়নের আশ্বাস দেন।
অভিযান ০৩ (চট্টগ্রাম-খাস্তগীর স্কুল):
চট্টগ্রামে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রির অভিযোগে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। দুদক টিম সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মাঠ পরিদর্শন করে জমির নথিপত্র সংগ্রহ করে।
প্রাথমিকভাবে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতির প্রমাণ মেলে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে।