(পর্ব ২)
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এইচ এমডি নুরউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একই পদে বহাল থাকা, দ্বৈত দায়িত্ব পালন, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সহকর্মী ও ঠিকাদারদের মধ্যে।
আরও পড়ুন…নির্বাচনের বিকল্প ভাবা জাতির জন্য বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা
দীর্ঘদিন একই পদে বহাল: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা একটানা তিন বছরের বেশি একই পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু নুরউদ্দিন সেই বিধি ভেঙে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একই প্রকল্পে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার (PE) পদে বহাল আছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্প পরিচালক (PD) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি নিয়মে সম্পূর্ণ বেআইনি।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ: অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নুরউদ্দিন নিয়মিত টেন্ডার আহ্বান করলেও তার পছন্দের ঠিকাদার কোম্পানি লোয়েস্ট না হলে টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করেন। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত সাতটি টেন্ডার এমনভাবে বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি টেন্ডার থেকে তিনি ১০% কমিশন নেন। এইভাবে তিনি প্রায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
এসিস্টান্ট ইঞ্জিনিয়ার পরিমল অভিযোগ করেন প্রতিবেদককে বলেন, নুরুদ্দিনকে টেন্ডার বাদ না দিয়ে ইভুলেশন করতে বললে সে তাকে বদলির হুমকি দেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও দোসর ঠিকাদার: অভিযোগ রয়েছে, নুরউদ্দিন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। এই রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।
বদলি আটকে গেছে ‘অদৃশ্য চাপে: চিফ ইঞ্জিনিয়ার বদলির ফাইল প্রস্তাব করলেও সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে ফাইল উপস্থাপন করতেই সাহস পাচ্ছেন না প্রশাসনিক সদস্যরা। ফলে নুরউদ্দিন এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন…তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিন সিভিল এভিয়েশনে নিয়ম ভেঙে দ্বৈত পদে বহাল
সহকর্মীদের ক্ষোভ ও নীরবতা: CAAB-এর বহু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নুরউদ্দিন টাকার জোরে প্রশাসনিক উচ্চপদস্থদেরও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে প্রশাসনিকভাবে বিপদে পড়ার ভয় থাকে। এ কারণে দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তদন্তের দাবি: সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকলে প্রশাসনিক কাঠামোয় অস্থিরতা তৈরি হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকে বলছেন, এটি শুধু দুর্নীতি নয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
একাধিক সহকর্মী ও ভুক্তভোগিদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে তদন্ত হোক, অপসারণ ও বিচার নিশ্চিত করা হোক।
চলবে… আরও তথ্যবহুল অনুসন্ধানী সংবাদ পেতে চোখ রাখুন ইবাংলা.প্রেস-এ
ইবাংলা.প্রেস/ এইচ এ