ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত সি*ন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে অ*বৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হলে তারা শুধু প্র*তিরোধই নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার ওপর ভ*য়ঙ্কর হা*মলা ও অপহ*রণের চেষ্টা পর্যন্ত করতে দ্বিধা করছে না।
এ থেকে স্পষ্ট যে স্থানীয় প্রশাসন যখন আইন প্রয়োগে নামে, তখন এ ধরনের চক্র নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ভী*তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এতে বোঝা যায়—তাদের শক্তি কেবল অর্থনৈতিক নয়, তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়াও ভোগ করছে।
ফলে সাধারণ মানুষ, যারা সরাসরি পরিবেশগত ক্ষ*তি ও নদীভাঙনের শিকার, তারা একরকম অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকে। কারণ প্রশাসনকেও যখন আ*ক্রমণের মুখে পড়তে হয়, তখন সাধারণ নাগরিকদের প্র*তিরোধ করার সক্ষমতা তো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন…চারঘাটে পানি সরবরাহ প্রকল্পে দুর্নীতি, শরণখোলায় স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মে দুদকের অভিযান
আজকের ঘটনায় আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার নিজ দায়িত্ব পালনের সময় অ*পহরণের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং আমাদের নদী, পরিবেশ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের ওপর এক গুরুতর হুমকি।
এ অবস্থায় প্রয়োজন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যাতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে প্রশাসনকে পর্যাপ্ত স*শস্ত্র নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই চ*ক্রকে বিচারের আওতায় আনা অত্যাবশ্যক।
পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে পরিবেশ রক্ষায় তাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।কারণ নদী রক্ষা মানে কেবল পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষা।