দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে দেশে একযোগে তিনটি পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান–০১: টুঙ্গীপাড়ায় এলজিইডির অসম্পন্ন প্রকল্পেও বিল উত্তোলন:
গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া উপজেলায় এলজিইডির প্রকল্পসমূহে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয়, গোপালগঞ্জ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে দেখা যায়, ২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বেশিরভাগ প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে টিম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে।
অভিযান–০২: মেহেরপুরে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ ও অতিরিক্ত শাখা খুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:
মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগ ও ভুয়া ছাত্রছাত্রী দেখিয়ে অতিরিক্ত শাখা খোলার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়া একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন…জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে কাতার খালেদা জিয়ার জন্য
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয় এবং রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশে বড় অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের নকল কপি ব্যবহার করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র যাচাই শেষে কমিশন বরাবর সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযান–০৩: কিশোরগঞ্জে কৃষকদের বরাদ্দকৃত কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণে অনিয়ম:
কিশোরগঞ্জ জেলার কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বরাদ্দকৃত কম্বাইন্ড হারভেস্টার যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়নি—এমন অভিযোগে দুদকের জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়।
অভিযান টিম উপপরিচালকের কার্যালয় (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর) এবং উপজেলা কৃষি অফিস পরিদর্শন করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও রেকর্ড সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।