১৪ সদস্যের কমিটি গঠন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণে

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।বিজয় দিবসের আগেই নতুন ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য যথাযথ ও উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ, নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আরও পড়ুন…একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

সভায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার (পদাধিকারবলে), জেলা পরিষদের প্রশাসক (পদাধিকারবলে) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সদস্য করা হয়েছে।

প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্যের নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেই সময় বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন উপস্তিত ছিলাম। এরপর গত ১৪ জুলাই পত্রপত্রিকায় দেখলাম, আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দিনের আলোতে কে বা কারা ভাস্কর্য ও চত্বর ভেঙে ফেলছে তা প্রশাসনের কেউ বলতে পারেনি। পৌরসভার কেউ এ নিয়ে আমাদের কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আমাদের গর্ব, ঝিনাইদহের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। তার নামে হওয়া চত্বর ও ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার বিষয়টি আমরা পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই, একই স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য ও চত্বর পুনঃনির্মাণ করা হোক।

তবে, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বলেন, যে মহাসড়কের মাঝখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, ওই জায়গাটি বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার প্রজেক্টের আওতায় চলে গেছে।

এরপর বক্তব্য রাখেন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের ফেজ-১ এর উপসহকারী প্রকৌশলী নিলন আলী। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছয় লেন প্রকল্পের আওতায় যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের চৌমুহনীতে বৃহৎ পরিসরে ইন্টারসেকশন (মোড়) হবে। ইন্টারসেকশন হলে সেখানে ভাস্কর্য রাখাও কঠিন হবে। কারণ, প্রকল্পের নকশায় ইন্টারসেকশনের মাঝখানে কোনো স্থাপনা রাখা হয়নি।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ বলেন, বিগত দিনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের নাম কেউ জানতো না। কোনো প্রচারণা ছিল না।

মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপনাটি অজানা কারণে আওয়ামী লীগের সরকার বন্ধ করে দেয়। সেখানে ভাস্কর্য ও চত্বর নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। যে কারণে ভাস্কর্য পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত চত্বর ও ভাস্কর্য সম্পর্কে জেলার অনেকেই অন্ধকারে ছিলেন। অনেকেই জানতেন না, ওইখানে আসলে কার ভাস্কর্য ছিল। কারণ, বিগত দিনে ভাস্কর্যটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়নি।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, প্রয়োজনবোধে কমিটিতে দুই-একজন সদস্য বাড়ানো হতে পারে। আশা করছি, কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য উপযুক্ত জায়গা যাচাই বাছাই করবেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ইবাংলা বাএ

পুনর্নির্মাণেভাস্কর্যরহমানের