ঘুস গ্রহণের অভিযোগে যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুসসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার বিকেলে দুদকের একটি ফাঁদ টিম তার কার্যালয় থেকে ঘুসের অর্থ উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে আটক করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী জনাব মোঃ নূরুন্নবী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে পেনশন ও বেতন সমতাকরণ সংক্রান্ত নথি দীর্ঘদিন আটকে রেখে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দুদক অভিযোগের সত্যতা পায়।
এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদনক্রমে একটি ফাঁদ মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার (০৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ১,২০,০০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি প্রস্তুত করে ওই অর্থ অভিযোগকারীর জিম্মায় দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন…ট্রাম্পের দখল পরিকল্পনা ঠেকাতে একজোট ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ দেশ
পরবর্তীতে একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে অভিযোগকারী যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তার ঘুষ দাবির প্রেক্ষিতে উক্ত টাকা প্রদান করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম টাকা গ্রহণ করে তার অফিস টেবিলের ডান পাশের ড্রয়ারে সংরক্ষণ করেন।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদকের ফাঁদ টিম তাৎক্ষণিকভাবে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অফিস টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুসের এক লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় এবং আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়।
দুদক জানায়, ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে আসামী মোঃ আশরাফুল আলম দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোরে মামলা নং– ০১, তারিখ: ০৭/০১/২০২৬ খ্রি. রুজু করা হয়েছে।দুদক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।