শেয়ারবাজার জালিয়াতি, প্লেসমেন্ট শেয়ার কারসাজি, ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন।
একইসঙ্গে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বিপুল ঋণ:
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতা ব্যাংক পিএলসি’র লোকাল অফিস, ঢাকার মাধ্যমে ‘কোজি এ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামের একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকগণের পূর্বে কোনো বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না।
আরও পড়ুন…ঘুসের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দুদকের হাতে আটক
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে Accommodation Bill তৈরি করেন। এতে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার (২০২২ সালের গড় বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৩৬৬ কোটি টাকা) আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ:
দুদক জানায়, আত্মসাৎকৃত অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে রূপান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যেসব আইনে মামলা:
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।